রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো নিহত দুই শ্রমিকের পরিবার ও আহত এক শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পেনশনের মতো মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহযোগিতা পেতে থাকবেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। এদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ‘নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিয়েছেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর (নিযুক্ত) মি. ম্যাক্স টুনন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, বেপজার অধীনে পরিচালিত ইপিজেডগুলোর তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতায় আর্থিক সুবিধা দিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সঙ্গে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস)’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে বেপজা। এই প্রকল্পের আওতায় রোববার ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের দুইজন নিহত শ্রমিকের পরিবার ও কুমিল্লা ইপিজেডের কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় শারীরিক অক্ষমতাজনিত কারণে একজন শ্রমিককে ক্ষতিপূরণের ‘নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা পেনশনের মতো মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পেতে থাকবেন।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের এ প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থার (জিআইজেড) কারিগরি সহায়তায় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। বেপজা, বিনিয়োগকারী, শ্রমিক কল্যাণ সমিতি, আইএলও ও জিআইজেড প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি এনডোর্সমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের বেপজার অধীনে যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড আছে সেগুলোর উন্নয়ন এবং সফলতার মূল ভিত্তি শ্রমিকরা। তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় কাজ করছি। প্রতিমাসে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটি মাসিক ভাতা চলে যাবে। পাশাপাশি আমরা শ্রমিক আইনে সংশোধনী আনতে চাই যেন কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় পড়লে বা কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা দেয়া যায়।
আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর (নিযুক্ত) মি. ম্যাক্স টুনন বলেন, আজকের মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবে আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আমাদের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হলো দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা। আইএলও সক্রিয়ভাবে শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যাতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা জোরদার করা যায় এবং দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ সম্ভব হয়।










