সচ্ছল-অসচ্ছল, প্রবীণ-শিশু—সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসে বসবাসের অনন্য এক পল্লী গড়ে উঠেছে যশোর সদরের নাটুয়াপাড়ায়। ‘আমাদের বাড়ি’ নামের সমন্বিত এ উদ্যোগ বাংলাদেশে এই প্রথম। যশোরের সন্তান ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এমএ রশিদ আমাদের বাড়ির স্বপ্নদ্রষ্টা। তার ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল এ প্রবীণ ও শিশু নিবাস ‘আমাদের বাড়ি’। যশোর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যাগে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। এর ৮০ শতাংশ সরকারের এবং ২০ শতাংশ জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের। গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে প্রায় দুই একর জমির ওপর এটি নির্মিত। চারতলাবিশিষ্ট ভবনটিতে ১৫০ জন বসবাস করতে পারবেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ গতকাল এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ফাউন্ডেশনকে বুঝিয়ে দেন।
জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভাট্টাচার্য, যশোর সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার, গণপূর্ত বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক অসীত কুমার সাহা প্রমুখ।
‘আমাদের বাড়ি’র উদ্যোক্তা জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ রশিদ জানান, সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পরিবারের ছেলেমেয়েরা দেশে-বিদেশে কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছে। বাড়িতে থেকে যাচ্ছেন প্রবীণরা। তারা হয়ে পড়ছেন অবহেলিত। তাদের দেখার কেউ থাকছেন না। আবার বাড়ি থেকে মা-বাবা কর্মস্থলে গেলে দাদা-দাদি, নানা-নানির কাছে রয়ে যাচ্ছে শিশুরা। ক্ষেত্রবিশেষে তাদেরও দেখভালের কেউ থাকছে না। এজন্য দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দের সঙ্গে এখানে থাকার সুযোগ পাবেন। তারা সারা দিন এখানে থেকে নিজেদের বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। আবার এখানেও আবাসিক সুবিধায় থাকতে পারবেন। অধ্যাপক রশীদ বলেন, সমাজের আরেকটি বড় অংশ অবহেলিত শিশুরা। এদের আমরা অনাথ বা এতিম বলছি না। যথাযথ সুবিধার অভাবে এরা মাদকাসক্তসহ নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। এসব শিশুকেও এখানে নিয়ে এসে যত্নের সঙ্গে গড়ে তোলা হবে— যেন তারা বিপথগামী হতে না পারে। তিনি আরো বলেন, এখানে তারা শুধু থাকবে, শুবে আর খাবে, ব্যাপারটা এমনও না। এ কম্পাউন্ডের চারপাশজুড়ে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মহিলা মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে তারা লেখাপড়া শিখতে পারবে। প্রবীণদের জন্য এখানে ব্যবস্থা আছে কৃষিকাজ, বাগান করা, পোলট্রি, গরু-ছাগলের খামার, মাছচাষের মতো কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ। রয়েছে শরীরচর্চা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার সব সুবিধা। এমনকি ইসিজি, এক্স-রেসহ প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, বার্ষিক স্বাস্থ্য চেকআপ, জরুরি প্রয়োজনে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে শহরের দুটি হাসপাতালের সঙ্গে করা চুক্তির আলোকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসুবিধার ব্যবস্থা। ছোট-বড় সবার জন্যই রয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।










