কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৈরি হচ্ছে নকল বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং বিদেশ গমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরির লক্ষ্যে রোহিঙ্গারা এমন অবৈধ কার্যক্রমে লিপ্ত।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তৈরির সরঞ্জামসহ জালিয়াত চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে এপিবিএন। বুধবার বিকালে উখিয়া লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের মো. আবদুল্লাহর বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন উখিয়া ১ নং ক্যাম্পের মো. ইসলামের ছেলে মো. আবদুল্লাহ, মুসা খলিলের ছেলে আবুল খায়ের, সৈয়দ হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল, হাবিবের ছেলে মো. ত্বালহা, তার সহোদর হারুন ও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল। আইনি প্রক্রিয়াশেষে জব্দকৃত মালপত্রসহ তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটককৃতরা প্রত্যেকে জালিয়াত চক্রের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. কামরান হোসেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে একটি জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন নকল জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা আব্দুল্লাহর বসতঘরে অভিযান চালায় এপিবিএন। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে জালিয়াতি কাজে ব্যবহূত চারটি ল্যাপটপ, আটটি স্মার্টফোন, চারটি পেনড্রাইভ, একটি স্ক্যানার, একটি প্রিন্টার, ২৮টি নকল জন্মনিবন্ধন, ১১টি জন্মনিবন্ধন তথ্য যাচাই, ৩০টি নকল জন্মসনদ, ২০টি নকল এনআইডি, ২০০টি বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডির ফটোকপি, সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের চেক ও জমাদান বই, পাঁচটি সিল, একটি সমবায় সমিতির নিবন্ধন সনদ, ২০টি শাহপরী বাস্তুহারা আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য ফরম ও ৩৫টি টাকা জমা দেয়ার পাস বই উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া মো. আব্দুল্লাহর নামে আটটি রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয়তা সনদসহ বিভিন্ন নামের চারটি জাতীয়তা সনদ, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিহীন সনদ পাঁচটি, ইলেকট্রিক বিলের কাগজ, বিভিন্ন ধরনের জায়গা-জমির দলিল ও খতিয়ানসহ মো. ইসমাইলের জন্ম সনদ ও আইডি কার্ড, মো. ত্বালহার সিটি করপোরেশনের জাতীয় সনদ, জন্ম সনদ, ভুয়া এনআইডি ও মো. হারুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।