শীত আসতে না আসতেই পরিবর্তন হচ্ছে আবহাওয়া। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে দিনে গরম আর রাতে ঠাণ্ডা ভাব দেখা দেয়া শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুরে বেড়েই চলেছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। শিশু-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সীরাই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে কেবল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালেই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুই শতাধিকের বেশি ভর্তি রয়েছেন। সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা। অপর্যাপ্ত শয্যা ব্যবস্থা, চিকিৎসক-নার্সসহ ওষুধ সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে আগত রোগী ও স্বজনদের। একই চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোরও।
১০০ শয্যার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের পরিধির তুলনায় জনবল অপর্যাপ্ত। নেই ৫০ শয্যার জনবলও। ফলে ঋতু পরিবর্তনে শীতের ঠাণ্ডার কারণে প্রতিদিন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে আসা রোগীদের ভিড় সামাল দেয়া বেশ কষ্টসাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে জরুরি বিভাগে ৭০-৮০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
সদর হাসপাতাল ছাড়াও জেলার কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভর্তি হচ্ছেন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় এসব রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
সরেজমিন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডে ডায়রিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এতে একপাশে শিশু ডায়রিয়া রোগী ও অন্য পাশে মহিলা ও পুরুষ ডায়রিয়া ওয়ার্ড। এতে প্রতিটি বেডে গাদাগাদি করে রোগী রাখা হয়েছে। এতে কোনো বেডে তিনজন আবার কোনো বেডে দুজন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আবার শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এক বেডেই রিজোয়ান (১১ মাস) ও জান্নাতুন নুর (আট মাস) দুই শিশু ভর্তি আছে। তাদের মা লিপি ও মরিয়ম জানান, বিছানা সংকটের কারণে এক বিছানায় দুজনকে চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। তবুও কষ্ট করছি সুস্থ হয়ে দ্রুত যেতে পারলেই হয়।
সার্বিক বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, দৈনিক অন্তত ৩০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ থাকলেও জনবল সংকটের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ঠাণ্ডা-গরমের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েই চলছে। প্রতিনিয়ত হাসপাতালগুলোয় মনিটরিং করা হচ্ছে।










