সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে নগরীতে পানি বাড়ছে। দিনভর থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টি। বিদ্যুতের বিভিন্ন সাবস্টেশন পানিতে ডুবে গেছে। ফলে মহানগরীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে রাত যাপন করতে হচ্ছে বানভাসিদের।

আজ বৃহস্পতিবার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমা সাবস্টেশন পানিতে ডুবে গেছে। ফলে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই কেন্দ্রটির গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে রয়েছেন। নগরীর উত্তরপ্রান্তের ঘাসিটুলা, কানিশাইল, তোপখানা, তালতলা এলাকায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওইসব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এতে রাত হলেই আতঙ্ক ভর করছে তাদের মধ্যে।

পল্লী বিদ্যুতের বিয়ানীবাজার এলাকার শেওলা সাবস্টেশনে যেকোনো সময় পানি প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সাবস্টেশনটি বন্ধ হলে সিলেটের জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাছাড়া, গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের তারের নিচ দিয়ে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে মাইকিং শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, বন্যার কারণে দক্ষিণ সুরমা সাবস্টেশনে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের তারের নিচ দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে এরই মধ্যে মাইকিং শুরু হয়েছে। শেওলা সাবস্টেশনে যেকোনো সময় পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বন্যায় নগরীসহ পুরো জেলায় ব্যাহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগও। সিলেট সদরসহ সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গরু-মহিষ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই সব এলাকার খেটে খাওয়া মানুষজন। উপজেলার স্কুলগুলোকে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, উজানে এখনো প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। এখনো সবকটি নদ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যার্তদের বাড়ি ও আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের সব কর্মী মাঠে রয়েছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।