নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জোড়া খুনের মামলায় আদালত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।  গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন লোকমান, শফিক, সুমন, আরিফুল, সুমন ও জামাল। তাদের মধ্যে সুমন, লোকমান ও সফিক পলাতক।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান জানান, বেশ কিছুদিন আগে রূপগঞ্জের দেবই এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে খাদিজার সঙ্গে আব্দুর রহমানের বিয়ে হয়। অভাব-অনটনের কারণে তাদের পরিবারে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ কারণে খাদিজা বাপের বাড়ি চলে যান এবং একটি মশার কয়েল কারখানায় কাজ নেন। ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট খাদিজা কয়েল কারখানায় কাজশেষে রাতে সহকর্মী আমেনা বেগমের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। পথে গাউছিয়া কটন মিলের পেছনে স্বামী আব্দুর রহমানের সঙ্গে দেখা হয়। তার ডাকে একটি বেবিট্যাক্সিযোগে স্বামীর সঙ্গে যান খাদিজা। পরে ১৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বোচারবাগ এলাকায় রমিজউদ্দিনের ডোবায় কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় খাদিজা ও আব্দুর রহমানের মৃতদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। খবরে পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খাদিজার বাবা আনোয়ার হোসেন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। জোড়া খুনের মামলা তদন্ত করেন রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ সরকার। সন্দেহভাজন আসামি আরিফুল, সুমন ও জামালকে গ্রেফতার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বামী আব্দুর রহমান স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ছয় খুনিকে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। আসামিরা স্বীকার করে ১১ আগস্ট রাতে খাদিজাকে ছয়জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ডোবার পানিতে চুবিয়ে খাদিজাকে হত্যা করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা না দেয়ায় এবং ঘটনা মানুষকে বলে দিতে পারে এ সন্দেহে খাদিজার স্বামী আব্দুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।