সিরাজগঞ্জে শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় মর্গের ডোমসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোম রানা এবং তার সহযোগী শাহ আলম ও সুমন।
গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোম রানা এবং তার সহযোগী শাহ আলম ও সুমনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক, একটি গলার চেন, দুটি আংটি, দুটি হাতের বালা, এক জোড়া কানের দুল ও নাকফুল তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করে ভাগ করে নেয় বলে স্বীকার করেছে আটককৃতরা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ডোমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মিরপুর মহল্লার কালাচাঁন মোড়ে বাস ও ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে রিকশা আরোহী বনবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ইফরাত সুলতানা রুনী তার ছেলেমেয়েসহ নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষিকা ও তার ছেলেমেয়ের মরদেহ সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে রোববারই ময়নাতদন্ত না করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত ইফরাত সুলতানার গায়ে স্বর্ণের একটি চেন, দুটি আংটি, দুটি হাতের বালা, এক জোড়া কানের দুল ও নাকফুল ছিল। কিন্ত মরদেহ হস্তান্তরের সময় স্বর্ণালংকার না পেয়ে মামলার বাদী ভিকটিমের ভাই মোসফেকুস সালেহীন পুলিশে অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।










