সিলেট নগরীতে আজ বুধবার সকাল থেকে পানি আরো বেড়েছে। নগরীসহ পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বানভাসি মানুষ খাবার পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে ভুগছে। ব্যাহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগও। সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলার ১০৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে এবং ৪টি ইউনিয়ন আংশিক প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত হয়েছে প্রায় ১২ লাখ মানুষ। বন্যায় আউশধানের বীজতলা ১ হাজার ৩০১ হেক্টর এবং বোরো ধানের ১ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০৪ হেক্টর। 

এছাড়া এলজিইডি’র ২০১.২২৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ২৮ মিটার কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১০টি সড়কের ৫৫.৬০ কিলোমিটার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ২৭৫টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট নগরীতে খোলা হয়েছে ২২টি আশ্রয় কেন্দ্র। এ পর্যন্ত সিলেটে ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজন আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে মোট আশ্রিত লোকের সংখ্যা ৬৪৭৫ জন।

স্থানীয়রা জানায়, সিলেট নগরীর বন্যা কবলিত এলাকার বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ওই সব এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ঘরে পানি ঢুকেছে। কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি রয়েছে। পানির কারণে মানুষজন রাস্তায় চলাচল করতে পারছেন না। বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংকে নর্দমার পানি প্রবেশ করায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

এছাড়া নিচু এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহজালাল উপশহর, ঘাসিটুলা, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে পানি উঠেছে। এসব এলাকায় বাসা-বাড়িতে কোমর সমান পানি। বাসা-বাড়িতে পানি উঠায় মানুষ বড় কষ্টে আছে।

এদিকে সীমান্তবর্তী সিলেট সদর উপজেলা, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গরু-মহিষ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ওই সব এলাকার খেটে খাওয়া মানুষজন। সিলেট সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হাটখোলা-জালালাবাদ ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৯০ ভাগ মানুষ। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের টুকেরাবাজের পানি উঠে যাওয়ায় যানচলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট-এর তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা বিপৎসীমার ১৪৩ সেন্টিমিটার, সিলেটে সুরমা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার এবং শেওলায় কুশিয়ারা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, উজানে এখনো প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, সিলেট নগরীতে বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রিত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সেবা তারা পাবেন। পুরো বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান সকালে সাংবাদিকদের বলেন, কিছু সরকারি স্থাপনায় পানি উঠলেও সেবা ব্যাহত হচ্ছে না। সব প্রতিষ্ঠানেরই স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।