মিয়ানমারে সামরিক জান্তার সঙ্গে বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির সংঘর্ষের তীব্রতা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। এ সংঘর্ষের কারণে সে দেশের ছোঁড়া মর্টারশেল, বোমা, গুলি এসে পড়ছে বান্দরবান সীমান্তে। এর মধ্যেও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষে প্রতিদিন পর্যটকবাহী ১০-১২টি জাহাজ কক্সবাজার-টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচল করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো বন্ধ রাখা প্রয়োজন। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন নৌ রুটের দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার। ওই ৪২ কিলোমিটার নৌ রুট একেবারে মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা। যেকোনো মুহূর্তে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলি বা মর্টারশেল পর্যটকবাহী জাহাজের মধ্যে এসে পড়লে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, টেকনাফ সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণে মিয়ানমারের সীমানা পেরিয়ে গুলি, মর্টারশেল এসে পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। এতে বাংলাদেশের নাগরিক আহত হচ্ছে। এরই মধ্যে সেন্টমার্টিনে নিয়মিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন রুটে এখন জাহাজ চলাচল বন্ধ করা জরুরি।

কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার লুৎফর লাহিল মাজেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া আমার কিছু করতে পারি না। তারা যে আদেশ দেন সেটা আমরা পালন করি। তবে আমাদের নিয়মিত টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।