সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হচ্ছে। বিদ্যুত্হীন অন্ধকারে রাতযাপন করতে হচ্ছে বানভাসিদের। যত সময় যাচ্ছে নগরীতে পানি বাড়ছে। থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টি। মহানগরীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েছে দুর্গত এলাকার পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ। রাত হলেই আতঙ্ক ভর করছে তাদের মধ্যে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে গতকাল কথা বলে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ সুরমা সাবস্টেশন পানিতে ডুবে গিয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই কেন্দ্রটির গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রয়েছে। এছাড়া নগরীর উত্তরপ্রান্তের ঘাসিটুলা, কানিশাইল, তোপখানা, তালতলা এলাকায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওইসব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

পল্লী বিদ্যুতের বিয়ানীবাজার এলাকার শেওলা সাবস্টেশনে যেকোনো সময় পানি প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সাবস্টেশনটি বন্ধ হলে সিলেটের জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের তারের নিচ দিয়ে সবাইকে সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে মাইকিং শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ১ নম্বর সড়কে অবস্থিত বিদ্যুৎ বিভাগ-৩-এর বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে পানি প্রবেশ করায় গোটা এলাকা মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুত্হীন রয়েছে। গতকাল পাওয়া শেষ খবর অনুযায়ী সেখানে এখেনো বিদ্যুৎ নেই। ফলে আলমপুর বিভাগীয় অফিস, বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, ডিআইজি অফিস, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ফলে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, বাস-টার্মিনাল, বদিকোনা, মাসুকগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় এলাকায় চুরি-ডাকাতির আশঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির বলেন, বন্যার কারণে দক্ষিণ সুরমা সাবস্টেশনে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের তারের নিচ দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে এরই মধ্যে মাইকিং শুরু হয়েছে। শেওলা সাবস্টেশনে যেকোনো সময় পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।’

এদিকে বন্যায় নগরীসহ পুরো জেলায় ব্যাহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগও। সিলেট সদরসহ সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরবর্তিত রয়েছে। গরু-মহিষ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ওইসব এলাকার খেটে খাওয়া মানুষজন। উপজেলার স্কুলগুলোকে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, উজানে এখনো প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল দুপুর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। এখনো নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পরবর্তী ঘোষণার আগ পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির কারণে সিসিকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় অবস্থানকারী নাগরিকদের খাবার সংকট, পয়ঃসুবিধা, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সিসিকের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক দল কাজ করছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যার্তদের বাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের সব কর্মীরা মাঠে রয়েছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।