ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে নদ-নদী। জোয়ারের পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যত সময় বেশী হচ্ছে ততই বাড়ছে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখতে মানুষজনকে নেয়া হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এরই মধ্যে উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। জেলায় ১৪৫টি সাইক্লোন শেল্টার ছাড়াও ১ হাজার ৭০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাছাড়া ১২ হাজার ৩ জন উদ্ধারকর্মী ও ১০৩টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সুন্দরবন এলাকার উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাও এই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতাধীন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিষয়ে সতর্ক করে উপকূলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বত্র মাইকিং করছে সিপিপি সদস্যরা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তোলা হয়েছে লাল পতাকা। উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা, পদ্মপুকুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার কাজ করছেন প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস।

উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুরের ৫৫ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ হাজার মানুষকে নদী পার নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। বাকী মানুষ স্থাননীয় আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্কুল ও মসজিদসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

তবে, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে আতংকে আছে উপকূলের মানুষ। শ্যামনগর ও আশাশুনির অন্তত ৪৩টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যা ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ডাম্পিং করে মেরামতে করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন। 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, জেলার উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পর্যাপ্ত মাস্ক ও গামছা দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ প্রত্যেক ইউনিয়নে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দূর্গতদের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।