বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশকে আর্থিক ও অনার্থিক উভয় দিক থেকেই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ৯৪-৯৫টি কর্মসূচি চালু আছে। যা কিছু ক্ষেত্রে ভালো প্রাতিষ্ঠানিক মডেল তৈরি করেছে। কিন্তু ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট থাকা সত্ত্বেও দুর্যোগের সময় এই অর্থ কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলানগরের চীন- মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত আলোচনার দ্বিতীয় সেশনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ সময় ‘বাংলাদেশে দুর্যোগের সময় সামাজিক সহায়তা কীভাবে আরো কার্যকর করা যায়’ — এ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

এতে জলবায়ু পরিবর্তন ও আকস্মিক দুর্যোগের মুখে বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে আরো ‘শক রেসপনসিভ’ বা দুর্যোগ-সাড়া প্রদানে সক্ষম করে তোলা জরুরি বলে মনে করেন ড. মাহফুজ কবীর।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে, তাপমাত্রা ৩-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হওয়ার মতো ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, যা প্রায়শই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীনের সভাপতিত্বে সেশনে আলোচক ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোনিরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (সমন্বয় শাখা) মুরশিদা শারমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এম. রেজাউল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত (স্থিতিশীলতা ও নতুন ভাবনা) প্রতিনিধি সিদ্দিকুল ইসলাম খান।

সেশন পরিচালনা করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ (জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) মালিহা মুজাম্মিল।