মির্জা আব্বাস। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও পুরান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। নির্বাচন ও প্রচারণা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি

প্রথমেই আপনার প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাই। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

এ এলাকায়ই আমার জন্ম। আমার শৈশব, বেড়ে ওঠা—জীবনের প্রায় সব অধ্যায় এ এলাকার সঙ্গে জড়িয়ে। আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তার শেকড়ও এখানেই। ফলে এ এলাকায় আলাদা করে সাড়া পাওয়ার প্রশ্নটা আমার কাছে একটু ভিন্নভাবে আসে। এখানকার মানুষ ছোটবেলা থেকেই আমাকে চেনে, জানে আমি কে, কী করেছি, কীভাবে রাজনীতি করেছি। তারা আমার ভালো দিক যেমন জানে, তেমনি ভুল-ত্রুটিও জানে। আমার বিশ্বাস, এ এলাকার মানুষ আবেগে নয়, বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। ভালো-মন্দ বিচার করার সক্ষমতা তাদের আছে; সে বিচার করেই তারা যা করার করবে।

এ এলাকার জন্য নির্বাচনে আপনি কোন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?

গত ১৭-১৮ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমরা কার্যত বাধ্য হয়ে জনগণ থেকে দূরে ছিলাম। তবে আমি বলব, দূরে থাকলেও কখনো বিচ্ছিন্ন ছিলাম না। এ সময়টা আমাদের জন্য ছিল দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা আর আতঙ্কের সময়। কখনো জেল খেটেছি। কখনো রাজপথে ছিলাম। কখনো গুলির মুখে পড়েছি। কখনো সহকর্মীদের ঘুমের মধ্যে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ বাস্তবতার মধ্য দিয়েই রাজনীতি করতে হয়েছে। ফলে এলাকার মানুষের সঙ্গে আমাদের যে স্বাভাবিক, প্রাণবন্ত যোগাযোগ আর বন্ধন ছিল, তা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো সে ভাঙা বন্ধন আবার নতুন করে গড়ে তোলা। মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া, তাদের কথা শোনা ও তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সম্ভাবনা কি এখন আর দেখেন?

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ আছে। বাস্তবতা তো একেবারেই পরিষ্কার। যাদের সঙ্গে জনগণের কোনো যোগাযোগ নেই, যারা এলাকায় কখনো মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ায়নি, তারা কীভাবে ভোটে জেতার আশা করে? এ প্রশ্নের উত্তর জনগণও জানে, আমরাও জানি। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে এ শঙ্কা থেকেই যায়।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?

যদি নির্বাচন প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, যদি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না হয়, তাহলে আল্লাহর রহমতে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমার বিশ্বাস মানুষের ওপর, তাদের বিবেচনার শক্তির ওপর। সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণই তার রায় দেবে।

আপনার বিরোধী প্রার্থী আপনার সমর্থকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তুলছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে অভ্যস্ত নই। রাজনীতিতে অভিযোগ তোলা একটা কৌশল—বিশেষ করে যারা জানে মাঠে তাদের অবস্থান দুর্বল। কেউ নির্বাচনের প্রার্থী হয় মূলত অভিযোগ করার জন্য। যেন নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করা যায়। আমি মনে করি, এটা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিরই একটা অংশ। আমরা এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

আপনি এর আগেও জনপ্রতিনিধি ছিলেন। সামনে নির্বাচিত হলে এ এলাকার মানুষকে আপনি নতুন কী দেবেন?

মানুষ যা চায়, যা তাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে, সেটাই আমার অগ্রাধিকার থাকবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব হবে মানুষের প্রয়োজনের জায়গাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করা।