লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস জালিয়াত চক্রের ১৩ সদস্যকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল সকালে লক্ষ্মীপুর সদর  ও রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। দুপুরে পুলিশের নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান।

এ সময় প্রতারক চক্রের কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী জামানত হিসাবে নেয়া বিভিন্ন ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেকের পাতা ও কয়েকটি মূল সনদপত্র ও ভুয়া প্রশ্নপত্রের কপি প্রদর্শন করেন পুলিশ সুপার। আটককৃতদের মধ্যে সাত নারী ও ছয়জন পুুরুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে আবার আট পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র সরবরাহের জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তারা ওই সব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে তাদের শিক্ষাগতযোগ্যতা সনদের মূল কপি ও বিভিন্ন ব্যাংকের স্বাক্ষরিত খালি চেকের পাতা জামানত হিসেবে রেখে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্রের উত্তরসংবলিত কপি সরবরাহ করবে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। তারা রামগঞ্জ পৌরসভার নন্দনপুর এলাকার আমিরেন্নেছা ভবনের তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে মাহমুদুল হোসাইন ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একই বিল্ডিং থেকে উত্তরসংবলিত কয়েক সেট ভুয়া প্রশ্নপত্রসহ সুমি আক্তার, মোরশেদা জান্নাত রেবু, সুরাইয়া আক্তার, তানিয়া বাসার, তাসনিম আক্তার ও সারমিন আক্তারসহ ছয় নারীকে আটক করে। তারা প্রত্যেকেই পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরে মাহমুদুল হোসাইন ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর সদরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মঞ্জুর হোসেন, রহমত উল্লাহ, পারভেজ হোসেন, জহিরুল ইসলাম ও জামাল উদ্দিন সবুজসহ এ চক্রের আরো পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়