নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান শেষ হয়েছে। করোনায় দুই বছর বন্ধ থাকার কারণে এবার পুণ্যার্থীদের ঢল নামে লাঙ্গলবন্দে। শুক্রবার রাত ৯টা ১৩ মিনিটে এ স্নানোৎসবের লগ্ন শুরু হয়ে শেষ হয় গতকাল রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। এ স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে বসে তিনদিনব্যাপী বারোয়ারি মেলা।
নারায়ণগঞ্জের
সোনারগাঁ ও বন্দরের সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া লাঙ্গলবন্দের ব্রক্ষ্মপুত্র নদের দুই তীরে ১৮ ঘাটে লাখের বেশি পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে অংশ নেন।
শান্তিপূর্ণভাবে স্নানোৎসব সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। প্রতিটি ঘাটে র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পৌরাণিক মতে, হিন্দু দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে গোসল করে পাপমুক্ত হন। লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে এ পানিকে ব্রক্ষ্মপুত্র নদে
নামিয়ে আনেন সমভূমিতে। পৌরাণিক এ কাহিনীকে স্মরণ করে প্রতি বছর চৈত্র মাসের নির্ধারিত দিনে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ তীর্থযাত্রী পুণ্যলাভের আশায় এখানে জড়ো হন।
স্নানোৎসবে অংশ নেয়া মিহির বাবা ও পুষ্পরানী বালা বলেন, জীবনে জেনে না জেনে অনেক পাপ করেছি। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পায়ের নিচে চাপা পড়ে একটি পিঁপড়ার মৃত্য হলে সেটি জীব হত্যা। তাই এ পাপ থেকে পরিত্রাণের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করছি। স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা, শুকনো খাবার, শিশুদের জন্য দুধ বিতরণসহ নানাভাবে সহায়তা দেয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম জানান, স্নানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ প্রায় দুই হাজার আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য একযোগে কাজ করেছে। ওপর থেকে নজর রাখতে ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে পুণ্যস্নান।
নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার জানান, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ১৮ ঘাটে পর্যাপ্ত চেঞ্জিং রুম ও টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। পুণ্যার্থীরা স্নান শেষ করে ভালোভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
২০১৫ সালে সরু রাস্তা ও অতিরিক্ত মানুষের চাপে স্নানোৎসবে আসা ১০ পুণ্যার্থী পদদলিত হয়ে মারা যান। ওই বছরই সরকার লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরই মধ্যে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও ঘাট সংস্কার করা হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রক্ষ্মপুত্র নদে হিন্দু সম্প্রদায়ের অষ্টমী স্নানোৎসবের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১৯ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন চালক এবং যাত্রীরা। গতকাল সকাল ১১টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন চিত্র দেখা যায়। মহাসড়কের সোনারগাঁয় মেঘনা টোল প্লাজা অংশ থেকে বন্দরের লাঙ্গলবন্দ হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক পর্যন্ত তীব্র যানজটের ফলে অনেকে গন্তব্যস্থলে না গিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। অনেক যাত্রীকে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের।
কাচপুর হাইওয়ে থানার ওসি সাজ্জাদ করিম খান জানান, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া দুদিন স্নানোৎসব কারণে হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ লাঙ্গলবন্দে সমাবেত হন। মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশি। সকাল থেকেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিকাল পর্যন্ত এমন যানজট থাকতে পারে বলে জানান তিনি। যানজট নিরসনে পুলিশের একাধিক টিম মহাসড়কে কাজ করে যাচ্ছে।










