আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। লোডশেডিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা হয়েছে, যা দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় চালু হয়েছে, আদানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং দ্রুত গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এফইআরবির চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীর ও নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজসহ অনেকে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ আইন (বিশেষ আইন) স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিআরসি) আইনের ৩৪(ক) ধারা বাতিল করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান থেকে সচিবদের অপসারণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লুটপাটের কাঠামো ভেঙে দেয়াসহ বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের জন্য নীতিমালা তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সঙ্গে অন্যান্য সরকারের পার্থক্য হলো বর্তমান সরকার কোনো পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নয়, এ সরকার বহু ছাত্র-জনতার রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গঠিত।’
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তার কোনো পছন্দের লোক নেই। তিনি কোনো পরিসংখ্যানে বিশ্বাস করেন না, মানুষের সত্যিকারের কী উপকার হলো, তার মাধ্যমে কাজের বিচার করা হবে। উন্নয়ন বিচার করা হবে বাস্তব অবস্থা দিয়ে।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এফইআরবির প্রতিনিধি দল ফাওজুল কবির খানকে নতুন দায়িত্বের জন্য স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা তাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে এ খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরে একটি টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গঠনে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।










