নভেল করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে লক্ষ্মীপুরে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এতে দুই এলাকা ৮টি বাড়ি লকডাউনে রাখা হয়েছে।

আজ শনিবার ভোর রাতে রামগঞ্জ উপজেলার শেফালীপাড়া গ্রামে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়েরিয়া, গলা ব্যথা নিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় সকালে ৫টি বাড়ি লকডাউনে রাখা হয়। অপর দিকে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে কমলনগর উপজেলার চর ফলকন গ্রামে একই রকম অসুস্থতা নিয়ে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এতে ওই বাড়িসহ ৩টি বাড়ি লকডাউনে রাখা হয়।

শনিবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান ও কমলনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আমিনুল ইসলাম মৃত্যুর ঘটনা দুটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, নিহত ওই রাজমিস্ত্রী চার-পাঁচদিন যাবত সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়েরিয়া, গলা ব্যথা ভোগে ভুগছিলেন। উপজেলা চিকিৎসক তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছেন। ওই ব্যক্তির বিচরণকৃত বাড়িসহ ৫ বাড়ি লকডাউনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ইসলামী ফাউন্ডেশন রামগঞ্জ শাখার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম দ্বারা মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।

এদিকে কমলনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কমলনগরে মৃত ওই ব্যক্তি গত দু’দিন ধরে ডায়েরিয়াসহ জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। হঠাৎ রাতে অসুস্থতা বেড়ে গেলে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের শরীরে করোনা উপসর্গ আছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বাড়িসহ ৩টি বাড়ি লক ডাউনে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় লক্ষ্মীপুরে ১৭৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে কোয়ারেন্টিন শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৭ জনকে। তবে বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৩৩ জন।