লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি সুপারির বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আজ রোববার (১০ মে) ভোরে উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সোলতানিয়া স্কুলের পাশে পণ্ডিত বাড়ির বাগানে নবজাতক শিশুটিকে পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিক পাঠান জানান, আজ রোববার ভোর ৬টার দিকে পণ্ডিত বাড়ির একটি বাগানে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় ভ্যানচালক তাহেরের স্ত্রী ফাতেমা নামের এক গৃহবধূ নবজাতককে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ নবজাতককে উদ্ধার করে ফাতেমাকেসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশুটি ফাতেমার তত্ত্বাবধানেই রয়েছে।

উদ্ধারকারী ফাতেমা বেগম জানান, তিনি ভোরে বাগানে হাঁটার সময় কান্নার শব্দ শুনে নবজাতকটি উদ্ধার করেন। এসময় শিশুটিকে উল্টো করে ফেলে রাখা হয়েছিল। এছাড়া ছেলে নবজাতক শিশুটির শরীরে রশি প্যাঁচানো ছিল।

শিশুটির বয়স দুএকদিন হতে পারে বলে ফাতেমার ধারণা। পরে তিনি পুলিশের সহযোগিতায় নবজাতককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ফাতেমা বলেন, ‘বর্তমানে সে (নবজাতক) আমার তত্ত্বাবধানে সুস্থ রয়েছে।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোতা মিয়া জানান, ‘নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়, খাদ্য, ওষুধপত্র কিনে দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আল্লাহর অশেষ কৃপায় সে বেঁচে আছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী জানান, নবজাতক একটি ছেলে। তাকে নেওয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু উদ্ধারকারী পরিবারের আগ্রহের কারণে তাদের কাছেই আপাতত লালনপালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।