ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ন্যায্যতার ভিত্তিতে, আমাদের কোনো স্বার্থ সেক্রিফাইজ করে নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মো. তাজুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেছেন, পরস্পর পরস্পরকে সম্মান করে এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে বেনিফিটগুলো ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। কিছু ভেসটেড গ্রুপ নানা ধরনের কথা ডিসিমেনেট করে আমাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু এসব ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি।

গতকাল ভারত সরকারের অর্থায়নে ও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্মিত তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রকল্প তিনটি হচ্ছে—চারাদীঘিরপারে ছয়তলা স্কুল ভবন, কাস্টঘর এলাকায় ছয়তলা ক্লিনার কলোনি ও ধোপাদীঘির চতুর্দিকে সৌন্দর্যবর্ধন কাঠামোসহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। এ তিন প্রকল্পে সব মিলিয়ে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। 

বেলা ১১টায় ধোপাদীঘির পূর্ব পাড়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ-ভারত প্রতিবেশী দেশ। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকে, এটাকে সমাধান করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বন্ডিং রিলেশন্স আছে, আছে ট্রাস্টেবল এবং ডিপেন্ডেবল রিলেশন্স।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, সিলেটের তামাবিল দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের মধ্যে একটি বড় রাস্তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটা হবে গ্রেট কানেকটিভি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, হবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ। সিলেটে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তখন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের লোকগুলো এখানে এসে অন্যান্য দেশে যেতে পারবে। আর ভারতের নর্থ ইস্টার্ন রিজিওনের হাব হবে সিলেট। প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক পুরনো। ট্রান্সফর্ম এডুকেশনাল অপরচুনিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একত্রে কাজ করছে। সিসিক এলাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়াকে ‘গ্রেট সাকসেস’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে বরিশালসহ অন্য সিটিতে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা ও বৃষ্টিতে সিলেট নগরীর অনেক রাস্তা ভেঙে গেছে। এগুলো সংস্কার না হওয়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া সিলেটের পর্যটন শিল্পের বিকাশে সিলেট-শিলং-গৌহাটি টুইনিং লিংকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা এবং ফাতেমা রশীদ সাবার উপস্থাপনায় এতে মূল বক্তব্য রাখেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সিলেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নুরে আলম সিদ্দিকী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামছুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ নগরীর বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।