ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাইনচ্যুত হওয়া মালবাহী ট্রেনের বগি উদ্ধার ও রেললাইন মেরামত শেষে প্রায় ৩১ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-সিলেটের সঙ্গে ঢাকামুখী আপলাইনটি সচল করা হয়েছে। গতকাল রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত মাস্টার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনের বগি উদ্ধারকাজ শেষ করার পর রেললাইন মেরামত, স্লিপার বসানো ও টেকনিক্যাল কাজ শেষে রাত ৮টার দিকে ঢাকামুখী আপলাইনে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে। আপলাইনে আপাতত ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ চলাকালীন আপলাইনে ট্রেন চলাচল না করলেও ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এর আগে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় দুর্ঘটনাকবলিত মালবাহী ট্রেনের সাতটি বগি উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়। উদ্ধার করা বগিগুলো পাশের তালশহর স্টেশনে রাখা হয়েছে।
এদিকে মালবাহী ট্রেনের ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা খাইরুল কবিরকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, ঢাকা বিভাগীয় সংকেত প্রকৌশলী মো. সৌমাক শাওন, বিভাগীয় প্রকৌশলী ঢাকা-২ সিরাজ জিন্নাত ও বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. রাসেল।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে তীব্র গরমে জেলা শহরের দাড়িয়াপুর এলাকায় লাইন বাঁকা হয়ে মালবাহী ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে রেললাইনে তাপমাত্রার পরিমাণ সবসময়ই বেশি থাকে। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এ কারণে গতি কমিয়ে ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ১১ এপ্রিল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে এ রকম নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।










