আগামীকাল শুক্রবার থেকে ভোজ্যতেলের মিলগুলো থেকে পরিবেশক, এজেন্টদের কাছে বিক্রি পণ্যের একক মূল্যের পাকা রশিদ না দিলে মিলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা  অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সিটি গ্রুপের তীর এবং বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের রুপচাঁদা সয়াবিল তেলের মিল পরিদর্শনকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু তারপরেও কেন ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে সেটি খতিয়ে দেখতে তারা মিলগুলোয় পরিদর্শন করছেন। অভিযান চলাকালে সিটি গ্রুপের তীর সয়াবিন তেলের মিলে পরিবেশক ও এজেন্টদের পাকা রশিদ না দেয়া এবং সরকারি নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে এসও বা ডিও পণ্য সরবরাহ না করারও সত্যতা খুঁজে পান। এছাড়া বাংলাদেশ এডিবল অয়েল মিলে গিয়ে পরিবেশকদের মূল্য তালিকা না দেয়ার অভিযোগ পেয়েছেন।

তবে মিল দুটিতে পর্যাপ্ত তেল মজুদ, উৎপাদন, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। অভিযান চলাকালে দুটি মিলেরই বিগত তিন মাসের উৎপাদন, বাজারজাত করার চালান খতিয়ে দেখে কোন অনিয়ম খুঁজে পাননি ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, তীর ও রুপচাঁদা ব্র্যান্ডের মিল পরিদর্শন করে দুটিতেই পর্যপ্ত পরিমাণ সয়াবিন তেলের মজুদ দেখতে পেয়েছি। এছাড়া জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের সরবরাহ কাজগপত্র আমরা খতিয়ে দেখেছি। এতে দেখা যায় সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক আছে।

তিনি আরো বলেন, এ দুটি মিলে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী পণ্য বেচাকেনা করা হয়নি, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মিল দুটিকে আইন মেনে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ডিও বা এসও বিক্রির ১৫ দিনের মধ্যে পাইকার বা ডিলারকে সেই পণ্য সরবরাহ করার নিয়ম আছে। কিন্তু আমরা তীরের মিলে এসে দেখতে পেয়েছি গত ৭ ফেব্রুয়ারির ডিও পণ্য আজ সরবাহ করা হচ্ছে, যা সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন। 

মিলগুলোয় পরির্দশনের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ী বা মিল মালিকদের হয়রানি বা ধর-পাকড় করার জন্য তাদের এ অভিযান নয়। বছরের পর বছর ধরে যে অনিয়ম চলে আসছে তা থেকে বের হয়ে একটি আইন কাঠামোর ভেতর এনে ব্যবসা পরিচালনা করানোর উদ্দেশ্যেই এ পরিদর্শন। 

মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বার বার অভিযোগ করা হচ্ছে, মিল গেইট থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে, দাম বেশি রাখা হচ্ছে। যে কারণে বাজারে তেলের সংকট হচ্ছে। কিন্তু মিলে এসে আমরা সেটি দেখতে পাইনি। আসলে দাম কারা বাড়াচ্ছে সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।

বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের কারখানা ব্যবস্থাপক অর্জিত বড়ূয়া জানান, সরকার ভোজ্যতেলের ওপর শুল্ক কমিয়ে বা প্রত্যাহার করে থাকলে দাম কমে আসবে। তবে আর্ন্তজাতিক বাজারে উচ্চমূল্য ও শুল্ক দিয়ে কাঁচামাল কিনে সেটি পরিশোধন করে বাজার সরবরাহ করছেন। এ কারণে উৎপাদন মূল্য বেশি পড়ছে। 

তিনি বলেন, চটগ্রাম পোর্টে তাদের নতুন যে পণ্য আসছে সরকার যদি শুল্ক প্রত্যাহার করে বা কমায় তাহলে পণ্য মিলে এনে রিফাইন করে বাজারজাত করা হলে দাম কমবে। অর্থাৎ ভোক্তাদের এর সুফল পেতে আরো কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিত সাহা বলেন, তীর সয়াবিন তেল সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। মজুদ আছে পর্যাপ্ত। আমার বেশি দামে কিনে মিল থেকে বেশি দামে বিক্রি করছি। সরকার শুল্ক প্রত্যাহার বা কমিয়ে দিলে অবশ্যই ক্রেতারা এর সুফল পাবেন। ভোক্তা অধিকারের নির্দেশনা মেনে এখন থেকে পরিবেশক ও এজেন্টদের পণ্য বিক্রির পাকা রশিদ দেয়া হবে। একই সঙ্গে ডিও বা এসওর বিষয়টি সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে।

ভোক্তা অধিকারের অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।