রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল বন্ধের ‘ষড়যন্ত্র প্রতিহতের’ লক্ষ্যে আন্দোলনমুখী খুলনার শিল্পাঞ্চল শ্রমিকরা। তারা সোমবার সকালে শ্রমিক ও সন্তানদের এক ঘণ্টার ধর্মঘট ও ১ জুলাই পরিবার নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবে।

আজ রোববার দুপুরে মহানগরীর খালিশপুর জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নতুন আধুনিক মেশিন স্থাপন, পাটক্রয়ে অর্থ বরাদ্দ ও উৎপাদন চালু রাখার দাবিতে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা ধর্মঘট-বিক্ষোভ ও আমরণ অনশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মিলগেটে সন্তানদের নিয়ে শ্রমিকদের অবস্থান ধর্মঘট, মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের মিলগেটে অবস্থান। এরপরও দাবি না মানলে ১ জুলাই দুপুর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরণ অনশন শুরু।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা সিবিএ ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক সরদার আব্দুল হামিদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আবারও বন্ধের পায়তারা চলছে। খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে কর্মরত স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার। পাটকলগুলো বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অবস্থায় পড়বেন। জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলে এক হাজার ৪৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার টাকার লোকসান হয়েছে। 

এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির আওতায় পাটকল বন্ধ রাখা হয়। তবে চাল ও বীজের মোড়কে পাটজাত বস্তার সংকট তৈরি হলে ২৫ এপ্রিল থেকে সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু করে পাটকলগুলো। কিন্তু ২৫ জুন ঢাকায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সারাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল আবারও বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে নামে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো।