গত রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত গ্লোবাল পোর্টস সেফটি প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের মোট ২০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় শিল্প নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রশিক্ষণ সমুদ্রবন্দরগুলোর শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।‘

বিশিষ্ট শিল্প নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অলিভিয়ার সালভির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণে আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, তরল হাইড্রোকার্বন সংরক্ষণাগার, তেল ও গ্যাস কার্যক্রম এবং রাসায়নিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জটিল ঝুঁকি মোকাবেলায় আধুনিক কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও মডেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অগ্নিকাণ্ড, বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন ও বিস্ফোরণের মতো বড় শিল্প দুর্ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ ও নিরাপদ দূরত্ব নির্ধারণের কৌশল শিখতে পারবেন। পাশাপাশি স্থানীয় তেল টার্মিনাল ও সংরক্ষণাগার পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব ঝুঁকি মূল্যায়ন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

এছাড়া বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত রাসায়নিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা, জাতিসংঘের পরিবহনবিষয়ক নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং সমুদ্রপথে বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ওপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, যাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় ও উপবিভাগীয় প্রধানসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান মো. আবদুল হান্নান এবং সঞ্চালনা করেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক সাঈদ ইমাম।