সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ২২৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তবে এটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭৯ কোটি ৬ লাখ টাকা কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রভাবে বন্দরের পণ্য আমদানি-রফতানি হ্রাস পাওয়ায় রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। তবে করোনা সংকট কেটে গেলে রাজস্ব বাড়বে বলে আশাবাদী বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩০৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৭৩ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৬৭ কোটি ৬৮ লাখ এবং অক্টোবরে ৮৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।
এ লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে গত চার মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৪ কোটি ৭৩ লাখ, আগস্টে ৪৬ কোটি ৪১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫৩ কোটি ৯৩ লাখ ও অক্টোবরে ৭২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭৯ কোটি ৬ লাখ টাকা কম।
সূত্রটি আরো জানায়, গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ভোমরা বন্দরে রাজস্ব অর্জিত হয়েছিল ২২৮ কোটি ১৩ লাখ
টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ, আগস্টে ৪৭ কোটি ৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৬৮ কোটি ৭ লাখ ও অক্টোবরে ৫৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, সম্প্রতি ভারতে করোনার প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সে দেশের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে পণ্য আমদানি-রফতানি করতে না পারায় বন্দরে রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমির মামুন বণিক বার্তাকে জানান, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানি খুবই হ্রাস পেয়েছে। ফলে রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ভোমরা বন্দরে ১ হাজার ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৭৩ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৭৭ কোটি ৫৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৬৭ কোটি ৬৮ লাখ, অক্টোবরে ৮৮ কোটি ৭ লাখ, নভেম্বরে ১১৪ কোটি ৮ লাখ, ডিসেম্বরে ১৩১ কোটি ৭ লাখ, জানুয়ারিতে ১৩২ কোটি ৫৫ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৫ কোটি ২৭ লাখ, মার্চে ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ এবং জুনে ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের এপ্রিল ও মে মাসে বন্দর বন্ধ থাকায় এবং কোনো রাজস্ব আদায় না হওয়ায় চলতি অর্থবছরের এপ্রিল ও মে মাসে কোনো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবে যে ১০ মাসের জন্য রাজস্ব আদায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৬৩ কোটি টাকা কম।









