কয়েক বছর ধরে জার্মানির শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারের আসনে চীন থাকলেও হঠাৎ সে অবস্থানের রদবদল হলো। এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত চীনের বাণিজ্য নিয়ে পশ্চিমা দেশ ও সংস্থাগুলোর নতুন অবস্থান এবং জার্মানি থেকে রফতানি কমে যাওয়া এতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। খবর সিএনবিসি।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্মিলিত রফতানি ও আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বা ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। একই সময়ে জার্মানি ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ৬ হাজার কোটি ইউরোর নিচে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মানি ও চীনের বাণিজ্য চিত্রের এ পরিবর্তনে বেশ কয়েকটি কারণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা সংস্থা আইএনজি রিসার্চের ম্যাক্রো রিসার্চ বিভাগের গ্লোবাল হেড কার্স্টেন ব্রজেস্কি।
তিনি জানান, বাণিজ্যিক অংশীদারের এ স্থানান্তর বেশ কয়েকটি বিষয়ের ফল। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জার্মান পণ্যের চাহিদার বৃদ্ধি শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। একই সময়ে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্নতা ও চীনের দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা জার্মানির রফতানিতে প্রভাব ফেলেছে। একসময় জার্মানি থেকে বড় পরিমাণের পণ্য আমদানি করত চীন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল প্রধানত গাড়ি। কিন্তু এশিয়ার দেশটি এ খাতে সক্ষমতা অর্জন করায় জার্মানি থেকে গাড়ি রফতানি কমে গেছে।
কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য শীর্ষ অবস্থান থাকলেও জার্মানিতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবধান সংকুচিত হয়েছে। বেরেনবার্গ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হোলগার স্মিডিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের তুলনায় জার্মানির রফতানির জন্য একটি বড় বাজার।’
জার্মানির রফতানিতে মার্কিন অংশ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাড়লেও চীনের রফতানি কমেছে উল্লেখ করে স্মিডিং বলেন, ‘চীনা অর্থনীতিতে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ রয়েছে। সেখানে চীনা সংস্থাগুলো সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি পায়। এ কারণে জার্মান কোম্পানিগুলো কঠোর প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।’
এমন পরিস্থিতিতে আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। উভয় পক্ষই পরস্পরের বাণিজ্য নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং আমদানিতে শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছে। এছাড়া চীনের পদক্ষেপের বিপরীতে গত বছর জার্মানিও দেশীয় কোম্পানিকে ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।
এপ্রিলে জার্মান ইকোনমিক ইনস্টিটিউট ইফোর এক জরিপে দেখা যায়, চীনের ওপর নির্ভরশীল জার্মান কোম্পানির সংখ্যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪৬ শতাংশ, গত ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ৩৭ শতাংশে এসেছে। এতে চীনের সরঞ্জাম ও উপকরণের ওপর নির্ভরশীল কিছু সংস্থার পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ বিষয়ে আইএনজি রিসার্চের কার্স্টেন ব্রজেস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে জার্মানির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে তা প্রকৃতপক্ষে পরিবর্তনশীল বাণিজ্যের ধরন এবং চীন থেকে ক্রমান্বয়ে বিচ্ছিন্নতার চিত্র তুলে ধরেছে।’










