পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চারটি কোম্পানির ওপর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো খুলনা পাওয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। গতকাল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৯১৬তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সভাপতিত্ব করেন।
বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ছয়টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ফ্লোর প্রাইস বিদ্যমান রয়েছে। চারটি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে এখন ফ্লোর প্রাইস রয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো) ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওপর। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার-সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে ২০২১ সালের ১৭ জুন কমিশনের জারি করা আদেশ পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সভায়।
ওই আদেশ অনুসারে শেয়ারদরের ঊর্ধ্বসীমা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারবে। এর মধ্যে শেয়ারদর ২০০ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে। শেয়ারদর ২০০ টাকার ওপর হলে এবং ৫০০ টাকা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার থাকবে। ৫০০ টাকার বেশি এবং ১ হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ারদর থাকলে সেক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। শেয়ারদর ১ হাজার টাকার বেশি এবং ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হবে। শেয়ারদর ২ হাজার টাকার ওপরে থাকলে এবং ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকার হবে ৫ শতাংশ। আর শেয়ারদর ৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও স্ল্যাবভিত্তিক এ সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য হবে।
গতকাল বিএসইসির সভায় জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাব বাতিলসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিএসইসি কর্তৃক প্রেরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া বিএসইসির ‘দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম’-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নিযুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের যেসব ইস্যুয়ার কোম্পানি বিধি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘোষিত লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড প্রদান করেনি, সভায় তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এছাড়া সভায় কাজাখস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য খসড়া সমঝোতা স্মারকটিতে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের বিষয়টি আলোচ্য সভায় অনুমোদিত হয়েছে। আলোচ্য দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়, দক্ষতার উন্নয়নসহ যেসব বিষয় রয়েছে তা উভয় দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেহেতু দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতবিরোধ হলে নিজস্ব আইনকানুন প্রযোজ্য হবে মর্মে সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ আছে, তাই এর শর্ত পালনে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানায় বিএসইসি।










