মার্কিন খাদ্যপণ্যের বাজারে চাহিদার মেরুকরণ দেখছে দেশটির বড় সংস্থাগুলো। আর্থিক সংগতিসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রিমিয়াম বা উচ্চমূল্যের খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন, অন্যদিকে সাশ্রয়ী খাবারের খোঁজ করছে ক্রেতাদের বড় একটি অংশ। এ কারণে মাঝারি মূল্যের খাদ্যের চাহিদা দিন দিন কমছে। নেসলে ও ড্যানোনের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলো সম্প্রতি জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকার মতো উন্নত অর্থনীতির বাজারে মাঝারি দামের পণ্যের প্রতি আগ্রহ কমে এসেছে। খবর রয়টার্স।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। এর প্রবণতা শুরু হয়েছিল কভিড-১৯ মহামারীর সময়ে। এরপর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে সে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। এতে সব ধরনের পণ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ও ভোক্তাদের বাজেটকে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে।
খাদ্য কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যপণ্যের দাম ধীরগতিতে বাড়ছে ও মূল্যবৃদ্ধির হারও কিছুটা শিথিল হয়েছে। তবু কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে কারণ কোম্পানিগুলো ধনী ক্রেতাদের জন্য আরো ভালো মানের পণ্য বাজারে আনার চেষ্টা করছে। একই সময়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট কাটছাঁটে থাকা সাধারণ ক্রেতারা সাশ্রয়ী পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকেছে।
বিশ্বের বৃহৎ প্যাকেটজাত খাদ্য কোম্পানি নেসলে সম্প্রতি তাদের পোষা প্রাণীর খাবার পুরিনা, পেরিয়ার পানি ও সাশ্রয়ী ম্যাগি নুডলসের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) বিক্রয় প্রবৃদ্ধি তুলে ধরেছে। আর্থিক প্রতিবেদনে নেসলের সিইও মার্ক স্নাইডার জানান, মূল্যবৃদ্ধি ও ফুড স্ট্যাম্প পেমেন্ট অর্থাৎ খাদ্যের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিমাণ কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের ভোক্তা পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ধনী ক্রেতারা প্রিমিয়াম পণ্যের প্রতি এখনো আগ্রহী।
বিলাসবহুল পণ্য ও দামি ফ্যাশনের ব্র্যান্ডের মতো অন্যান্য ভোক্তা শিল্পেও ধনী ক্রেতাদের সংখ্যা বেড়েছে, এর বিপরীতে স্বল্প আয়ের ভোক্তারা বাজারে কম দামি পণ্য খুঁজছেন।
সিইও মার্ক স্নাইডার বলেন, ‘আমরা নিম্ন আয়ের ভোক্তা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য চাপ দেখছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা দুই বছর থেকে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনুভব করছেন। এছাড়া ইউএস সাপ্লিমেন্ট নিউট্রেশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামের আওতায় খাদ্য কেনার সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিমাণও কমেছে।’
একই ধরনের তথ্য দেন বাজার বিশ্লেষক জিন-ফিলিপ বার্টস্কি। তিনি বলেন, ‘বিলাসবহুল পণ্য শিল্পেও আমরা উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু হিমায়িত খাদ্যদ্রব্য, মাঝারি পরিসরের পণ্যগুলোয় নেসলের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।’
এদিকে আরেক ভোগ্যপণ্য জায়ান্ট ইউনিলিভার সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে জানিয়েছে, বেশির ভাগ পণ্য বিভাগে প্রিমিয়াম পণ্যের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা সাশ্রয়ী বিকল্প পণ্যের প্রতি আর আকৃষ্ট হচ্ছে না।
দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বৈশ্বিকভাবে পরিচিত ড্যানোনের ফাইন্যান্সিয়াল চিফ জুর্গেন এসের জানান, তাদের সাশ্রয়ী ও উচ্চমূল্যের পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে তুলনায় মাঝারি মূল্যের পণ্যের চাহিদা কিছুটা চাপা পড়ে গেছে।










