মিসরের জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাত বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বড় ধরনের বিনিয়োগ পাওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। এপ্রিলে টানা ৪১তম মাসের মতো জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাত সংকুচিত হয়েছে বলে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে। খবর আরব নিউজ।
মিসর গত কয়েক মাসে বড় অংকের বিনিয়োগ পেয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এর আগে মার্চে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৮০০ কোটি ডলারের চুক্তি করে দেশটি।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষক সংস্থা এসঅ্যান্ডপির গ্লোবালের সূচকে মিসরে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের অবনমন হয়েছে। গত এপ্রিলে পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ছিল ৪৭ দশমিক ৪ পয়েন্ট, যা মার্চের ৪৭ দশমিক ৬ পয়েন্ট থেকে কিছুটা কম। সূচকটি টানা ৪১ মাস ধরে ৫০ পয়েন্টের নিচে রয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কর্মসংস্থান উপসূচক মার্চের ৫০ দশমিক ৮ থেকে এপ্রিলে ৪৯ দশমিক ৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। প্রসঙ্গত সূচকের মান ৫০ পয়েন্টের বেশি হলে প্রবৃদ্ধি ও এর কমে সংকোচন বোঝায়।
৬ মার্চ আইএমএফের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে মিসর। চুক্তি অনুসারে এপ্রিলে প্রথম কিস্তির ৮২ কোটি ডলার এপ্রিলে গ্রহণ করে দেশটি। আইএমএফের পর্যালোচনার পর আগামী জুনে পরের কিস্তির ৮২ কোটি ডলার অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে।
প্রতিবেশী গাজার সংকট থেকে উদ্ভূত অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে মিসরকে এ ঋণ সহায়তা দিচ্ছে আইএমএফ। এ চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ৬ মার্চ দেশটি মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে ও ৬০০ বেসিস পয়েন্টে সুদহার বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
তবে এপ্রিলে মিসরের উৎপাদন খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতি হয়েছে। উৎপাদনের উপসূচক মার্চের ৪৪ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ৪৪ দশমিক ৮ পয়েন্ট হয়েছে। একইভাবে সামান্য উন্নত হয়েছে নতুন ক্রয়াদেশ সূচক, যা পণ্যের চাহিদা নির্দেশ করে। এ সূচক মার্চের ৪৫ থেকে এপ্রিলে ৪৫ দশমিক ৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ উৎপাদন প্রত্যাশা সূচক মার্চের ৫২ দশমিক ২ থেকে এপ্রিলে ৫৫ দশমিক ৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।










