রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি দুর্গম শাখার নতুন তালিকা তৈরি করেছে। এতে ব্যাংকটির পার্বত্যাঞ্চলের ১৬টি শাখাকে বাদ দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সামগ্রিক দিক বিবেচনায় এ তালিকা হালনাগাদ করলেও পাহাড়ি তিন জেলার ১৫ শাখায় কর্মরতরা দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রণোদনা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নিদের্শনা অনুযায়ী, শাখার ভৌগোলিক অবস্থান, জেলা সদর থেকে দূরত্ব, ইউটিলিটি সুযোগ-সুবিধা ও মানসম্মত আবাসন সুবিধার সংকট বিবেচনায় মোট ৬৪ শাখাকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করেছে সোনালী ব্যাংক। গত ১৪ অক্টোবর ব্যাংকের ৯০৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও যাচাই-বাছাইসহ মাঠ পর্যায়ের পর্যালোচনা শেষে গত রোববার এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘নতুন করে পার্বত্যাঞ্চলের ৩১ শাখার মধ্যে ২১টিকে দুর্গম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
নতুন তালিকায় রাঙ্গামাটির বনরূপা, চন্দ্রঘোনা, ঘাগড়া, কাপ্তাই, নিউ কোর্ট হিল ও রাঙ্গামাটি শাখা; খাগড়াছড়ির গুইমারা, খাগড়াছড়ি সদর ও মাটিরাঙা শাখা এবং বান্দরবানের সদর শাখাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তবে পার্বত্য এলাকায় কর্মরত সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবগুলো শাখাকে দুর্গম রাখার পক্ষে। শুরুতে পার্বত্য এলাকার মাত্র ১০টি শাখাকে দুর্গম হিসেবে বিবেচনায় নিতে প্রস্তাব দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন শাখায় কর্মরতদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে জেলার প্রধান কার্যালয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুর্গম শাখার সংখ্যা আরো পাঁচটি বাড়িয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির ১৫ শাখার মধ্যে নয়টি, খাগড়াছড়ির ৯ শাখার মধ্যে ছয়টি ও বান্দরবানের ৭ শাখার মধ্যে ছয়টিকে তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, লংগদু, কাউখালী ও বরইছড়ি শাখা স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি থেকে রয়েছে পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি, দীঘিনালা, মানিকছড়ি ও রামগড় শাখা। এছাড়া বান্দরবানের আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও লামা শাখাকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।










