তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করবে সুইসকন্ট্যাক্ট। এজন্য কোম্পানিগুলোকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
গতকাল ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান সুইসকন্ট্যাক্টের ইন্সপায়ার প্রকল্পের টিম লিডার বিধোরা তাহমিন খান। ডিএসই ও সুইসকন্ট্যাক্টের যৌথ উদ্যোগে ‘এক্সপ্যান্ডিং আরএমজির ফাইন্যান্সিং হরাইজনস: অপরচুনিটিজ ইন দ্য ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।
বিধোরা তাহমিন খান বলেন, ‘আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতের সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে ভবিষ্যতে ডিএসই, বিএসইসি ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যাডভাইজরি ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে। সুইসকন্ট্যাক্ট প্রায় ২০ বছর ধরে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। কমপ্লায়েন্স, দক্ষতা উন্নয়ন ও গ্রিন ট্রানজিশনের পাশাপাশি এখন এ খাতের কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
সুইসকন্ট্যাক্টের প্রগ্রেস প্রকল্পের টিম লিডার ফারজানা আমিন বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের অর্থায়নে ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সুযোগও বিবেচনা করা প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাফল্য দেখে অন্য কোম্পানিগুলোও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
বর্তমানে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের বড় অংশ আসে ব্যাংক ঋণ থেকে। এ নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন কর্মশালার বক্তারা।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, ‘পুঁজিবাজার শুধু বিনিয়োগের মাধ্যম নয়; দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই পুঁজিবাজারকে শুধু আইপিও বা শেয়ারবাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। বেসরকারি খাতের অর্থায়নের চাহিদা এবং পুঁজিবাজারের অর্থায়ন সক্ষমতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতাগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা দরকার।’
অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর ডেপুটি সেক্রেটারি মো. হারুনূর রশিদ বলেন, ‘দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো অর্থায়নের ক্ষেত্রে মূলত ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে না। এ অবস্থায় পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। ভালো ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা গেলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। তবে তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কোম্পানিগুলোর টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।’
কর্মশালায় বিএমবিএর সভাপতি ও লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সিইও ইফতেখার আলম আইপিওর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় আইপিও, কিউআইও, এসএমই প্লাটফর্ম, বন্ড ও ডাইরেক্ট লিস্টিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তুলে ধরেন ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের।










