‘জলবায়ু শরণার্থী, আইনের পরিভাষা এবং এর অন্তর্নিহিত গুরুত্ব’ শীর্ষক সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনার ছিল এসএইচএসএসের ‘ডিস্টিংগুইশড ওয়েবিনার সিরিজ’-এর অংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওয়েবিনারে মূল বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়্যারউইকের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইমন বেহরম্যান। শরণার্থী আইন ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত এ গবেষক তার উপস্থাপনায় ‘জলবায়ু শরণার্থী’ পরিভাষাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইনের ভাষাগত ও নীতিগত জটিলতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনে “জলবায়ু শরণার্থী” শব্দটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকলেও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পরিভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ তার মতে, কোনো ব্যক্তিকে কী নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেটি শুধু ভাষাগত বিষয় নয়; বরং তার সঙ্গে আইনি অধিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রশ্নও জড়িত।

ড. বেহরম্যান পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ জলবায়ুজনিত কারণে নিজেদের বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।’

ড. বেহরম্যান জানান, জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনায় বৈশ্বিক উত্তরের অনেক দেশের রাজনৈতিক আপত্তির কারণে ‘জলবায়ু শরণার্থী’ শব্দটি এড়িয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি’, ‘অভিবাসন’ বা ‘পরিকল্পিত পুনর্বাসন’-এর মতো তুলনামূলক অস্পষ্ট পরিভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এনএসইউর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শরণার্থী ব্যবস্থাই বর্তমানে নানা চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের পরিধি সম্প্রসারণের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতা নিয়ে গভীর গবেষণা ও নীতিগত আলোচনা প্রয়োজন।’

ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন এনএসইউর আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. লোকমান হোসেন। শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ড. বেহরম্যান এবং জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।