সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমা চাইলেন চীনের সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট বাইদুর জনসংযোগ বিভাগের প্রধান কিউ জিং। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা নিয়ে মন্তব্য করে সম্প্রতি ক্ষোভের মুখে পড়েন এ কর্মকর্তা। ‘যতক্ষণ সম্ভব কাজ করার সংস্কৃতিকে সমর্থন করেন’ বলে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন কিউ জিং। খবর বিবিসি।
ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ডুয়িনে এক পোস্টে কিছুদিন আগে কিউ জিংকে বলতে শোনা যায়, কর্মচারীদের সুস্থতা নিয়ে তার কোনো দায়দায়িত্ব নেই, কর্মীদের মা নন তিনি।
ভিডিও বার্তায় আরো জানান, কর্মীদের মধ্যে যারা তার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। কিউ জিং বলেন, ‘শুধু একটি ছোট বার্তার মাধ্যমে আমি আপনাদের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া অসম্ভব করে দিতে পারি।’
তবে সমালোচনার মুখে কিউর পোস্টগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি সামাজিক মাধ্যম ওয়েচ্যাটে জানান, সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ও বিনীতভাবে গ্রহণ করেছেন।
প্রযুক্তি খাতে বিশ্বব্যাপী চীনের কদর দিন দিন বাড়ছে। এমন সময়ে কিউ জিংয়ের মন্তব্য দেশটির প্রযুক্তি খাতের দুর্বল কর্মক্ষেত্রকে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।
আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা ‘৯৯৬’-কে আশীর্বাদ বলে বর্ণনা করেছিলেন বেশ আগে। এ নিয়মে প্রযুক্তি খাতের কর্মীরা সপ্তাহে ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করেন। এ কারণে ৩৫ বছর বয়স হলেই বেশির ভাগ প্রযুক্তি কোম্পানি কর্মীদের ছাঁটাই করার সংস্কৃতি চালু রেখেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, এ বয়সে পরিবার ও অন্যান্য কারণে কর্মক্ষেত্রে তাদের সময় দেয়ার হার প্রভাবিত হয়।
তার ছেলে কোন ক্লাসে পড়ে জানেন না বলে সাম্প্রতিক আরেক ভিডিওতে উল্লেখ করেন কিউ জিং। তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যদি জনসংযোগ বিভাগে কাজ করেন, তবে সাপ্তাহিক ছুটি আশা করবেন না। আপনার ফোনটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে। সবসময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
পুরো বিষয়টি নিয়ে বাইদু কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কিউ জানান, এ ভিডিওগুলো বাইদুকে প্রতিনিধিত্ব করে না। এগুলো পোস্ট করার আগে কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেননি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে ভিডিওগুলো আমার কোম্পানির মূল্যবোধ ও করপোরেট সংস্কৃতি সম্পর্কে জনসাধারণের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেছে।’










