করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করলে শূন্য রিটার্নের সংখ্যা আরো এক লাখ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি জানান, চলতি করবর্ষে অনলাইনে জমা পড়া ১৫ লাখ আয়কর বিবরণীর মধ্যে ১০ লাখই শূন্য রিটার্ন, অর্থাৎ তারা কোনো কর দেননি।

সোমবার ( ২৪ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দাবিটা অযৌক্তিক নয়, তবে এতে কিছু সমস্যা রয়েছে। এখন করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকা করলে শূন্য রিটার্ন আরো এক লাখ বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রকৃত করদাতার সংখ্যা খুবই কম। কর ছাড়ের সীমা বাড়ালে যারা আগে মিনিমাম কর দিতেন, তারাও শূন্য রিটার্নে চলে যাবেন। ফলে কর আদায়ে সমস্যা হবে।’

ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক থাকার ফলে অনেকে টাকা রাখতে চান না বলে মন্তব্য করেন ইআরএফ সভাপতি। তিনি পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার এবং মুনাফার ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আসন্ন বাজেটে কিছুটা ‘রিলিফ’ দেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘লোন নিলে ব্যাংক থেকে টাকা কেটে রাখা হয়, যা আয় হওয়ার আগেই উৎসে কর আদায়। এবার কিছুটা কমানো হবে। কর সংগ্রহ বাড়াতে আমরা নীতিগতভাবে কঠোর হয়েছি, তবে ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক পুরোপুরি তুলে দেয়া যাবে না। তবে ধাপে ধাপে কমানো হবে। ঋণের ওপর কর বাতিল এবং স্বল্প আমানতের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

কর হার বাড়বে না, তবে পুনর্বিন্যাস করা হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠান রিডিউসড রেটে কর দিত, তাদের এখন নিয়মিত হারে কর দিতে হবে। বৈষম্য দূর করতে এটি করা হবে।’

চেয়ারম্যান জানান, কর ফাঁকিবাজদের শনাক্তে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বড় করদাতারা নিয়মিত কর দিলেও ফাঁকিবাজরা ধরা পড়ে না। এবার ছোট-বড় সবার ক্ষেত্রে সমান নজরদারি করা হবে।’

আলোচনায় ইআরএফ সভাপতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণে কর হার পাঁচ শতাংশে সীমিত রাখা, তামাকের কর বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি করদাতাদের সর্বোচ্চ কর হার ৩০-৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাবসহ ৩৫টি সুপারিশ তুলে ধরেন।