রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারের বহুমুখী সম্মেলনকক্ষে গতকাল আয়োজিত এ সেমিনারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বাজার মধ্যস্থতাকারী, শিল্প খাতের নেতা ও সম্ভাব্য ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের সম্ভাবনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে তালিকাভুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সদস্যভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রচলিত ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ বিবেচনা করছে, সেসব প্রতিষ্ঠানও সেমিনারে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস সম্প্রসারণে পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই। এজন্য আরো বেশি যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সুমিত পোদ্দার। তিনি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের আবেদন প্রক্রিয়া, তালিকাভুক্তির সুবিধা ও একটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন।

এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া সম্ভাব্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ, সম্মতিসংক্রান্ত বিষয় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে বক্তারা করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক বিধিমালা পালন, আর্থিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব ও তালিকাভুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বাস্তব বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।