যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত পিট হেগসেথকে অনুমোদন দিয়েছে সিনেট। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে সিনেটে ৫১-৫০ ভোটে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। খবর বিবিসি।

হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। কারণ পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে সিনেটের প্রাক্তন সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেলসহ তিনজন রিপাবলিকান সিনেটর ভোট দিয়েছেন; যার ফলে ভোট ৫০-৫০ টাই হয়। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সিদ্ধান্তমূলক ভোটটি পিট হেগসেথের পক্ষে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেডি ভ্যান্সই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি একজন ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করতে ভোট দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট নির্বাচনে লড়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী পিট হেগসেথ। সেখানেও তিনি নির্বাচনে জিততে পারেননি।

মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন এই সদস্য ও একসময়ের ফক্স নিউজের উপস্থাপক এখন প্রায় ৩০ লাখ কর্মী ও ৮৪৯ বিলিয়ন ডলারের (৬৯৫ বিলিয়ন পাউন্ড) বাজেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন। হেগসেথ এর আগে আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, তিনি তখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যে প্রতিষ্ঠান চালিয়েছিলেন, তাতে লোক ছিল সাকুল্যে ১০০, আর বাজেট এক কোটি ৬০ লাখ ডলার।

হেগসেথের অনুমোদন শুনানির সময় তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপানের অভিযোগও উঠেছিল।

শুনানির সময় নারী সিনেটররা হেগসেথের অতীতের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা উচিত নয়। জবাবে তিনি বলেন, তার উদ্বেগ নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা নিয়ে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার বিষয়ে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটররা হেগসেথের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার সামরিক অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভায় সাধারণত যে ধরনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা তার নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদটিতে সাধারণত জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, জেনারেল বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাই থাকেন।

এছাড়া আরো আপত্তি থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেক রিপাবলিকান হেগসেথের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন।