দেশের রফতানি আয় নিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে ভুল নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুইভাবে এক্সপোর্ট করি। এর একটি হচ্ছে ব্যাংক টু ব্যাংক এলসি। প্রথমে আমরা কাপড় ও সুতো টাকা দিয়ে ইমপোর্ট করি, তারপর এক্সপোর্ট করি। এখানে পুরো ভ্যালু এক্সপোর্ট হিসেবে ধরা হয়। আবার আরেকটি হচ্ছে, কাপড় ও সুতা বিনামূল্যে বায়াররা পাঠিয়ে দেয়। যখন এক্সপোর্ট হয়, বায়াররা শুধু আমাদেরকে সিএমটি (কস্ট অ্যান্ড মেকিং চার্জ) পেমেন্ট করে। কিন্তু ইপিবি এখানে ফুল এক্সপোর্ট ভ্যালুটা দেখিয়েছে। আমি মনে করি ইপিবি ভুল করেনি, ঠিকই করেছে।’
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডিজিটালাইজ করা সংক্রান্ত এক গোলটেবিল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রফতানি আয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইপিবির কাছ থেকে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। সম্প্রতি হিসাব পদ্ধতি সংশোধন করে রফতানি আয় থেকে ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার বাদ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমি সুতা আর কাপড় বিনামূল্যে পেয়েছি, নাকি কিনেছি সেটা মূল বিষয় নয়। সেখানে সমস্যা হলো ইপিবি যখন পুরো মূল্য দেখায় কিন্তু আসলে আমি শুধু সিএমটি পাই। আর তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। তাদের মধ্যে অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইপিবির যেটা ভুল হয়েছে, ইপিজেড থেকে যে রফতানি হয়, তা একবার হিসাবে ধরা হয়। আবার যখন গার্মেন্টস থেকে রফতানি হয় সেটা আবারো ধরা হয়। এখানে দুইবার হিসাব করা হয়। সেটা তারা এবার ঠিক করে দিয়েছেন। ইপিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারেনি। তবে দেরিতে হলেও বিষয়টির সমাধান হয়েছে। ভবিষ্যতে রফতানির তথ্য নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি হবে না।’
হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও আইসিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ বলেন, ‘রফতানির বিষয়ে বিজিএমইএর একটি সেল রয়েছে। সব সময় দেখেছি তাদের সঙ্গে ইপিবির তথ্যে গরমিল রয়েছে। আমাদের রফতানিতে যখন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়, তখনো দেখি ইপিবির তথ্যে সেটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। এটি ইপিবি কীভাবে করে, তা আমাদের জানা নেই। ইপিবির তথ্য সংগ্রহের ভুল ঠিক করা প্রয়োজন। এমন ভুলের কারণে দেশের ভাবমূর্তি নেতিবাচক হতে পারে।’
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরে বলছি তাদের তথ্যে ভুল আছে। কিন্তু সেটা আমলে না নিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এখনো-তখনো আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যকেই প্রাধান্য দিয়েছি, দিচ্ছি।’
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি জানান, তথ্যগত ভুলের কারণে সরকারের নীতিতে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ সরকার যখন দেখেছে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, তখন নীতি গ্রহণ করেছে এক রকম। যদি প্রকৃত তথ্য দেখত তাহলে নীতি অন্য রকম হতো। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের নগদ সহায়তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটিও এ ভুল তথ্যের কারণে ঘটেছে।










