পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির শেয়ারদর গতকাল আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। এদিন কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৭০ পয়সায়, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪১ টাকা ৬০ পয়সা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।  

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের সুদ আয় হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৮৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। 

চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৪৬ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ১৯ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৬৩ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য ডিবিএইচ মোট ১৭ শতাংশ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৩৫ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৭ টাকা ১৫ পয়সা। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ডিবিএইচ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৭ টাকা ১৫ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৬ টাকা ২৮ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ডিবিএইচ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য মোট ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ ও বাকি ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

কোম্পানিটির সর্বশেষ সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)। 

২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে আসা ডিবিএইচের অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৬৬৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ১৭১। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৬ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৮ টাকা ৭০ থেকে ৫৬ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।