আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় তাদের ‘উই-ফাই’ উদ্যোগ জয়ী করপোরেট কানেক্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে।
দুই দিনব্যাপি এই মেলায় বিভিন্ন লিডিং করপোরেট বায়াররা উপস্থিত হন এবং তারা নারী উদ্যোক্তাদের (ডব্লিউ ই’স) সাপ্লায়ার ডাইভার্সিটি, ইনক্লুসিভ ইকোনমিক গ্রোথ, সাস্টেইনেবল বিজনেস প্র্যাকটিস ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ ধারণা দেন। নারী দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের আলোকে আয়োজিত এই মেলার লক্ষ্য ছিল, নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগতাদের (ডব্লিউএসএমই) করপোরেট ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
মেলায় নারী উদ্যোক্তারা পোশাক, হস্তশিল্প, প্রসাধনী, স্বাস্থ্যসেবা পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পণ্য, চা এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রদর্শন করেন। আইপিডিসি ‘জয়ী’ ছাড়াও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে মেলায় শাহিন’স হেল্পলাইনের সাপোর্ট বুথ ছিল, যারা নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছে। মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উই-ফাইয়ের বাস্তবায়ন পার্টনার ‘ইনোভিশন’ এবং ‘সি-থ্রি-সিক্সটি’ এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও, বিভিন্ন স্বনামধন্য স্থানীয় ও বহুজাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের উপদেষ্টা ও কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন মেট্রোসেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ এবং তিনি ডব্লিউএসএমইদের সঙ্গে বৃহৎ পরিসরে ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনের জন্য আগত অন্যান্য করপোরেশনদের উৎসাহ প্রদান করেন।
করপোরেট অর্ডারকে আরো সহজতর করতে আইপিডিসি ‘জয়ী’ মেলায় একটি এক্সক্লুসিভ বায়ার-সাপ্লায়ার মিটিং স্পেসের আয়োজন করে, যেখানে আমন্ত্রিত করপোরেটস ও ডব্লিউএসএমই ব্যবসায়ীরা সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরাসরি আলোচনা করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে যেমন করপোরেট অর্ডার তৈরি হয়েছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, ‘জয়ী করপোরেট কানেক্টের মতো উদ্যোগগুলোকে বিশ্বব্যাংক সাধুবাদ জানায়। এই উদ্যোগটি ডব্লিউএসএমইদের ক্ষমতায়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি বিভাগের ডিরেক্টর নওশাদ মোস্তফা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলোর জন্য আর্থিক সুবিধা সম্প্রসারণে সর্বদা স্বচেষ্ট। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মেলায় এসে ভীষণ আনন্দিত এবং আমাদের ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর জন্য এখান থেকে বিভিন্ন পণ্য অর্ডার দিব বলে ভাবছি।’
এসএমই ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি, দারিদ্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করা সম্ভব। এসএমই ফাউন্ডেশন সবসময় জয়ী করপোরেট কানেক্টের মতো উদ্যোগের পাশে থাকবে।’
আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, ‘বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উদ্ভাবনের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য আমরা অতীতেও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং আগামীতেও করবো।’
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আইপিডিসি ফাইন্যান্স নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তি










