বাণিজ্য বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার হারাচ্ছে চীনের অধিকাংশ কোম্পানি। এমন শঙ্কার মাঝে শেইন, টেমু ও টিকটক শপের মতো ই-কমার্স প্লাটফর্মগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশল দ্রুত পরিবর্তন করছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এতে খুব বেশি লাভ হবে না। কেননা যুক্তরাষ্ট্র সরকার পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। খবর এশিয়া টাইমস।
নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা ও ব্রোকারেজ সংস্থা এবি বার্নস্টেইনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানি তিনটির হিস্যা ৩ শতাংশের মতো। চলতি বছর শেষে তা ৫ শতাংশ ছাড়াতে পারে। কিন্তু এসব কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করতে বর্তমানে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকের অন্যতম একটি ফিচার হলো টিকটক শপ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী বা ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষায় বিদেশী মালিকানায় থাকা অ্যাপের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকানা হস্তান্তর না করলে নিষিদ্ধের কথাও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সরবরাহ চেইনের সংকট নিরসন করতে না পারায় মার্কিন আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে রয়েছে শেইন ও টেমু।
যুক্তরাষ্ট্রের ডি-মিনিমিস সুবিধার অপব্যবহার করায় চীনা ই-কমার্স সংস্থাগুলো সমালোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তদারকি ও কর দেয়া ছাড়াই ৮০০ ডলারের কম মূল্যের পণ্য সহজেই বাজারজাত করা যায়। মার্কিন আইনপ্রণেতারা তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শেইন ও টেমুর কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
এক ওয়েবিনারে এবি বার্নস্টেইনের সিনিয়র বিশ্লেষক মার্ক স্মুলিক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা এড়াতে টেমু মার্কিন বাজার থেকে দূরে সরে এসেছে। গত বছর বাজারে ভালো অবস্থান তৈরিতে কোম্পানি যতটা আগ্রহী ছিল এবার সে হার একেবারেই কম।’ এর পরিবর্তে কোম্পানিটি এখন ইউরোপ, মেক্সিকো ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মনোযোগ বাড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ বিশ্লেষক আরো বলেন, ‘অন্য অঞ্চলে মনোযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শেইন ও টেমু স্থানীয় পর্যায়ে ওয়্যারহাউজ তৈরি ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করছে। মূলত কোম্পানিগুলো মার্কিন সরকারের ডি-মিনিমিস রুল পরিবর্তন বা ইউএফএলপিএ কার্যকর রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।’
মার্ক স্মুলিক জানান, স্থানীয়করণের এ কৌশল সংস্থা দুটির জন্য ইতিবাচক হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। কেননা এটি ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারমূল্যের সুবিধায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফ্যাশন ও বিউটি অ্যাপ সেগমেন্টে সবচেয়ে বেশিবার ডাউনলোড হওয়া অ্যাপ ছিল শেইন। এ সময় ৩ কোটি ৫০ লাখের বেশিবার অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়েছে। যেখানে নাইকির অ্যাপ ১ কোটি ৫২ লাখ ও পোশমার্কের অ্যাপ এক কোটিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। অ্যাপফিগারসের তথ্যানুযায়ী, গত বছর আইফোন অ্যাপ হিসেবে ১০ কোটি ৩০ লাখ ডাউনলোড নিয়ে শীর্ষে ছিল টেমু।










