মোটা অংকের জরিমানার মুখে পড়েছে জেনারেল মোটরস। ৫৯ লাখ পুরনো গাড়ির কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি অর্থনীতির মানদণ্ড পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে মার্কিন সরকার। খবর এপি।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০১২-১৮ সালে আসা মডেলের কিছু গাড়ি জ্বালানি নিয়ম মানেনি।

এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) পরীক্ষায় দেখা যায়, জিএমের পিকআপ ট্রাক ও এসইউভি প্রদর্শিত স্টিকারের তুলনায় গড়ে ১০ শতাংশ বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করছে।৷ এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জিএমকে জরিমানা করা হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও যানবাহনগুলো নতুন কোনো সংযোগ বা বিয়োজন ছাড়াই সড়কে থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে ইপিএ। এমনকি কোম্পানির ঘোষণার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি জ্বালানি ব্যবহার হয়ে থাকে, স্টিকারে এ বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য দেয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে ক্লিন এয়ার আইন না মানার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জিএম। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের গাড়ি দূষণ ও মাইলেজ সনদের সব ধরনের নিয়ম মেনে চলে।

জেনারেল মোটরসের মুখপাত্র বিল গ্রটজ বলেন, ‘‌২০১৬ সালে ইপিএ যে নিয়ম অনুসরণ করত তার পরিবর্তনের কারণে নতুন এ অসংগতি দেখা দিয়েছে। জেনারেল মোটরসের যানবাহন মালিকদের কোনো ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের যানবাহনে কোনো ত্রুটি নেই।’

অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের সঙ্গে জিএমের প্রায় ৫৯ লাখ গাড়ি জড়িত বলে ইপিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৬ লাখ পূর্ণাঙ্গ পিকআপ ও এসইউভি এবং প্রায় ১৩ লাখ মাঝারি আকারের এসইউভি। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে শেভ্রোলে তাহো, ক্যাডিলাক এসকালেড ও শেভ্রোলে সিলভেরাডোসহ ৪০টির মতো মডেল।

এদিকে ইপিএ জানিয়েছে, কার্বন নিঃসরণে ফ্লিট স্ট্যান্ডার্ডের নিয়ম না মানায় কার্বন ক্রেডিট কিনতে হবে জিএমকে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে অটো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যানুসারে, বিষয়টি সমাধানে আনুমানিক ৪৯ কোটি ডলার খরচ হবে।

তবে অলাভজনক পরামর্শক সংস্থা ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্ট পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সংস্থার যানবাহনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ডেভিড কুক বলেন, ‘এত ব্যাপক আকারে দূষণ সত্ত্বেও জিএম কীভাবে বিষয়টি টের পায়নি?’

এদিকে জিএমকে ˆযন সুপ্রিম কোর্ট নোটিস দেয় সে দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী গোষ্ঠী সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি।