অথচ তাদের মূল কাজ ছিল জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং সামাজিক রূপান্তরের কারখানা হিসেবে নিজেদের বিনির্মাণ করা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হিসেবে একটি আধুনিক জাতি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিনিয়োজিত হতে পারে এমন মানব পুঁজি বিকাশের পরিবর্তে প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দিয়েছি। যদিও বাংলাদেশ শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবু গবেষণা হয়েছে কম। গবেষণার ফলও তুলনামূলকভাবে কম প্রচারিত হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণা বাবদ যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সীমিত তহবিল, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব, দুর্বল শিল্প-বিশ্ববিদ্যালয় সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপর্যাপ্ত সহযোগিতা। এর ফল দাঁড়াচ্ছে গবেষণায় কম উৎপাদনশীলতা, উচ্চ-প্রভাবশালী জার্নালে কম প্রকাশনা এবং গবেষণালব্ধ ফলের সীমিত বাণিজ্যিকীকরণ। গবেষকরা প্রায়ই ভাষা, সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার অভাব এবং প্রকাশনা ব্যয় দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন। ফলে একাডেমিয়াতে তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই শক্তিশালী গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যা শিক্ষা কাঠামোর মধ্যে অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রচার এবং প্রয়োগকে একীভূত করবে। শিক্ষকদের কাজই হচ্ছে নিত্যনতুন জ্ঞান আহরণ। তারপর গবেষণার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের মাঝে এ জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে। জাতীয় উন্নয়নের জন্য গবেষণা সংস্কৃতি অপরিহার্য। কারণ এগুলো নীতিমালা ও কৌশল প্রণয়ন, উদ্ভাবন এবং জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পাড়বে। গবেষণা শিক্ষাদানকে সমৃদ্ধ করে, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় একটি গবেষণা সংস্কৃতির প্রবর্তনের বড় দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিক্ষাদানের পাশাপাশি গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে স্পষ্ট থাকা জরুরি। তাদের করণীর মধ্যে রয়েছে গবেষণার ফলাফল, তহবিল, সহযোগিতা এবং সামাজিক প্রভাবের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য স্থাপন, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তির সুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস তৈরি এবং পরিমাপযোগ্য সূচক এবং স্বচ্ছ প্রতিবেদনসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি অনুষদমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের বুঝতে দেয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা একটি ঐচ্ছিক কার্যকলাপ নয়, বরং একটি একটি মূল কর্তব্য। এমন পরিবেশ গবেষণাকে সমর্থন ও বৃদ্ধি করতে সব রকম কৌশলগত সম্পদ বরাদ্দ নিশ্চিত করবে।

নিরবচ্ছিন্ন তহবিলের জোগান গবেষণা বৃদ্ধির ভিত্তি। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে গবেষণার জোগান সাধারণত হয় না; এর জন্য তারা সীমিত সরকারি সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। একটি গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রাথমিক প্রকল্পগুলোয় বীজ-তহবিল জোগানের জন্য বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ৩ শতাংশ বাধ্যতামূলক বরাদ্দ করে অভ্যন্তরীণ অনুদান প্রতিষ্ঠা করতে হবে; বিশ্বের অনেক দেশেই এমনটি করা হয়। এতে বিশেষ করে নবীন গবেষকদের প্রারম্ভিক সহায়তা হবে। একই সঙ্গে বহিঃস্থ তহবিল অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্য অংশীদারদের কাছ থেকে অনুদান চাওয়ার জন্য গবেষকদের লজিস্টিক সহায়তা দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা তহবিল তৈরি করতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগত দান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে, যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত জনহিতকর উৎস থেকে অনুদান আকর্ষণ করা এবং গবেষণার জন্য নিবেদিত তহবিল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা। স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে এবং প্রতিশ্রুতিশীল প্রকল্পগুলোকে যথাযোগ্য সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। অধিকন্তু একটি সুস্থ শিল্প-শিক্ষা অংশীদারত্ব ব্যবস্থাপনায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সমস্যাগুলো সমাধান এবং নতুন পণ্য বিকাশে সহায়তা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারস্থ হতে পারে।

গবেষণার জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো প্রয়োজন, ভৌত এবং ডিজিটাল উভয়ই; এটি বিকাশের সর্বোত্তম উপায় হলো উল্লিখিত সব ধরনের গবেষণা তহবিল; অর্থাৎ চাওয়া অনুদানের মধ্যেই যন্ত্রপাতি বা গবেষণাগার গঠনের টাকা ধরে রাখতে হবে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিরাপদ সুবিধা, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং স্কোপাস এবং ওয়েব অব সায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিক ডেটাবেসগুলোয় প্রবেশাধিকারসহ সুসজ্জিত পরীক্ষাগার, গবেষণা ফলাফল সংরক্ষণ এবং ভাগ করে নেয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণাগার এবং গবেষণা কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য কারিগরি কর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা পুনরাবৃত্তি এবং ব্যয় হ্রাস করবে আর ভাগাভাগি করা সুবিধাগুলো দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

যেহেতু অনুষদ সদস্যরাই গবেষণার চালিকাশক্তি, তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি ইতিবাচক গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য গবেষণা-সক্রিয় শিক্ষক নিয়োগ এবং ধরে রাখতে হবে। তাদের উচিত কেবল উচ্চতর ডিগ্রি এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনুষদ নিয়োগ করা; তাদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং সুবিধা, যেমন পেশা এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন কর্মসূচি, ফেলোশিপ, আন্তঃবিনিময় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্মোচন ও দৃশ্যমানতার সুযোগ এবং গবেষণার সময় দেয়ার জন্য সুষম কর্মঘণ্টার সুযোগ দেয়া। কর্ম উৎকর্ষের স্বীকৃতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক মূল্যায়নে প্রকাশনা, অনুদান আহরণ, পেটেন্ট এবং সম্মেলনে উপস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। নগদ পুরস্কার, হ্রাসকৃত শিক্ষাঘণ্টা, ভ্রমণ তহবিল এবং প্রকাশনা সহায়তার মতো প্রণোদনা অনুষদ সদস্যদের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। সর্বোপরি সক্রিয় গবেষণাকে পদোন্নতির যোগ্যতা হিসেবে দেখতে হবে।

গবেষণা ক্ষমতা এবং দক্ষতা তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়মিতভাবে গবেষণা নকশা এবং পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক প্রকাশনীর জন্য উপযুক্ত লেখা, সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিসংখ্যান এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, প্রকাশনা প্রক্রিয়া, বৌদ্ধিক সম্পত্তি এবং গবেষণা ও প্রকাশনা নৈতিকতার ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করতে পারে। গবেষণা অফিস দুর্বল লেখকদের জন্য সম্পাদনা এবং সংশোধন সহায়তা, অনুদান প্রস্তাব উন্নয়ন এবং পেটেন্ট আবেদন পূরণে সহায়তা প্রদান করবে। এ অফিসটি অভিজ্ঞ অনুষদ এবং বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের দ্বারা, বিশেষ করে প্রারম্ভিক গবেষকদের জন্য একটি কাঠামোগত পরামর্শদান কর্মসূচিও পরিচালনা করবে। এর অধীনে অভিজ্ঞ গবেষকরা নবীনদের গবেষণার বিষয় নির্বাচন, অধ্যয়ন নকশা, নীতিগত অনুমোদন আদায়, পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত ইত্যাদি বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন। সমমনা শিক্ষানবিসরা ক্রমাগত উন্নতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য ভালো চর্চার উদাহরণ বিনিময় করতে পারে।

একটি টেকসই গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমের মধ্যে গবেষণা প্রকল্প এবং অনুসন্ধানভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টগুলোকে একীভূত করা উচিত, ছাত্র গবেষণার জন্য ক্রেডিট, উপবৃত্তি এবং শিক্ষণ সহযোগী নিয়োগ দেয়া উচিত। জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও কৃষির মতো জাতীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে স্নাতক প্রোগ্রাম স্থাপন করা উচিত এবং অনুষদ-নেতৃত্বাধীন প্রকল্প ও সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা উচিত। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মধ্যে গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলকে অন্তর্ভুক্ত করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৌতূহল, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা ক্ষমতা বৃদ্ধির মিলনমেলা হিসেবে দেখতে হবে।

বিশ্বব্যাপী অংশীদারত্ব গবেষণার সুযোগ, দৃশ্যমানতা এবং র‍্যাংকিং বাড়ার সুযোগকে প্রসারিত করে। বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যৌথ প্রকল্প, প্রকাশনা এবং আন্তঃবিনিময় কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সুযোগ অনুসন্ধান ও সমঝোতা স্মারক প্রতিষ্ঠা করা উচিত। স্নাতক শিক্ষার্থীদের সহতত্ত্বাবধান এবং সহযোগিতামূলক গবেষণাকে উৎসাহিত করা উচিত এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন, পরামর্শ, শিক্ষানবিসি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জড়িত করা উচিত। অংশীদারদের সম্পৃক্ততা গবেষণা বাস্তব-বিশ্বের সমস্যাগুলোর সমাধানে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা নিশ্চিত করবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব অতিরিক্ত তহবিল তৈরি করে এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে গবেষণাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।

এক্ষেত্রে বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলো আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প উৎপাদনশীলতা, মেশিন লার্নিং এবং নিরাপদ জ্বালানির মতো অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলোয় গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে। এ কেন্দ্রগুলো বিদেশী তহবিল আকর্ষণ করতে পারে, বিভিন্ন শাখায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং জাতীয় লক্ষ্য এবং সামাজিক চাহিদার সঙ্গে গবেষণাকে সামঞ্জস্য করতে পারে। উৎকর্ষ কেন্দ্রগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দৃশ্যমানতা দিয়ে এগুলোকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার যোগ্য করে তোলে।

গবেষণা যদি শিক্ষাদান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে তবে তার প্রভাব, দৃশ্যমানতা এবং প্রাসঙ্গিকতা কমে যায়। তাই গবেষণালব্ধ ফলকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কেসস্টাডি এবং পরীক্ষণ প্রকল্প হিসেবে পাঠদান কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অনুষদ সদস্যদের গবেষণায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে হবে এবং শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং কোর্সের বিষয়বস্তুকে ঐশ্বর্যময় ও যুগোপযোগী করার জন্য গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করতে হবে। এভাবে আত্মীকরণ শেখার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে। একটি গবেষণা সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তার পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। গবেষণা অফিসের উচিত প্রকাশনা, সাইটেশন এবং অনুদান-সংক্রান্ত তথ্য অনুসরণ ও একসঙ্গে করে বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করা, গবেষণা সংকলন প্রকাশ করা, গবেষণা পরিবেশ এবং চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নে জরিপ পরিচালনা করা, সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাপেক্ষ মানদণ্ড স্থাপন করা এবং ভবিষ্যতের নীতি এবং বিনিয়োগকে নির্দেশিত করার জন্য একটি প্রতি-তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা। এ ধরনের পর্যবেক্ষণ জবাবদিহি এবং ক্রমোন্নতি নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণা সংস্কৃতি চালু করা একদিকে একটি প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যদিকে সুযোগও বটে। কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি, তহবিল, অনুষদ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, অবকাঠামো, অংশীদারত্ব এবং শিক্ষাদানে গবেষণার একীকরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের গবেষণা-নিবিড় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে পারে। এ রূপান্তর কেবল শিক্ষা কার্যক্রমের উৎকর্ষ বাড়াবে না, বরং জাতীয় উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়াতেও অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এর অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে, উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে। জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং সামাজিক রূপান্তরের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের ঈপ্সিত ভূমিকা পালন করতে হবে। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি প্রাণবন্ত গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে, যা একাডেমিক সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়িত করে জাতি গঠন এবং বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিতে অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান: অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়