ডিজিটাল হয়ে উঠার পর এখন আমরা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। নাগরিক, সরকার, অর্থনীতি ও সমাজ—এ চার মূল স্তম্ভের স্মার্ট তথা সময়ানুগ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে। আর এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশে স্মার্ট শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে এ লক্ষ্যগুলো আরো দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হবে।
দেশের শিক্ষা খাতকে স্মার্ট করে তুলতে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি উন্নত করা, আধুনিক শিক্ষার জন্য প্রযোজ্য অবকাঠামো নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা বা কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে সবাইকে দক্ষ, স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী উদ্যোগের অংশ। পাশাপাশি, বিভিন্ন বেসরকারি, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানও দেশের আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগে এগিয়ে আসছে, যা সরকারের উদ্যোগকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
করোনাকালে ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষার অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিময় রাখার পাশাপাশি আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা শুরু হয়। এ সময় অনলাইন ক্লাস ও শিক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বহুলভাবে পরিচিত হন। করোনা-পরবর্তী সময়েও অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুফল ভোগ করেছেন; অনেকে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবেও বিবেচনায় রেখেছেন।
আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মাধ্যমে এখন দেশে বসেই মোনাশ কলেজ অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের মতো বিভিন্ন দেশের বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে সেসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, লেকচার ও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দেশে বসেই বিশ্বমানের সনদ অর্জন করছেন। বিদেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে লেকচার দেয়া হচ্ছে, ঠিক সে লেকচারটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার মানের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ থাকছে না।
দেশে বসে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ যুগোপযোগী উদ্যোগের ফলে উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্য পূরণ ত্বরান্বিত হবে। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) চতুর্থ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নেও গতি আসবে। তাদের বিশ্বমানের শিক্ষা ‘সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা ও জীবনব্যাপী শিক্ষালাভের সুযোগ তৈরি করা’—এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিঃসন্দেহে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও স্মার্ট করে তুলতে গেলে বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হারে বৈশ্বিক শিক্ষাপ্রযুক্তি খাতের বাজার বেড়ে প্রায় ৩১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পরিণত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এ থেকে পিছিয়ে নেই, সরকার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রযুক্তিনির্ভর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষা ও শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলোয় সমন্বয় করতে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) নিশ্চিত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে নিয়ে আসবে।
ডিজিটাল উপায়গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে সবার জন্য আধুনিক, যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করলেই আমাদের পক্ষে স্মার্ট জাতি হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব। আর এ রকম একটি জাতিই আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে।
ড. মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন: ডিন অব একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স, ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি)










