মফিদুল হক, সেন্টার ফর দ্য স্টাডিজ অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিসের (সিএসজিজে) পরিচালক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব। একাধারে লেখক, গবেষক ও প্রকাশকও তিনি। আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট-ইউনেস্কো প্রকাশিত দ্বিবার্ষিক সংকলন ‘ওয়ার্ল্ড অব থিয়েটার’-এর অন্যতম সম্পাদক তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সংঘটিত জেনোসাইড, এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে কী করণীয় ও গুরুত্ব ইত্যাদি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবরিনা স্বর্ণা

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের যে বর্বরতার শিকার আমরা হয়েছি, তাকে জেনোসাইড বলব নাকি গণহত্যা বলব, তা নিয়ে দেশে এক ধরনের মতবিরোধ দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে আপনার মতামত কী? 

একাত্তরে যে নৃশংসতা হয়েছে তা জেনোসাইড, আমরা বাংলায় বলি গণহত্যা। তবে গণহত্যা জেনোসাইডের প্রতিশব্দ নয়; বাংলায় জেনোসাইডের প্রতিশব্দ নেই। সেটা না থাকাটাও সংগত। ইংরেজি ভাষায়ও জেনোসাইড বলে কোনো শব্দ ছিল না। ১৯২০ বা ১৯৩০ কিংবা ১৯৪০ সালের অভিধান যদি দেখা হয়, তাহলে সেখানে শব্দটি পাওয়া যেত না। এ শব্দ নতুন তৈরি করা হয়েছে। যে নৃশংসতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঘটেছে, ইহুদি জাতি এবং অপরাপর জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এবং এ ধরনের নৃশংসতা যা সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে, একটি গোষ্ঠীকে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সবাইকে সংহার করার জন্য, তা ভাষায় ব্যক্ত করা বেশ দুরূহ ছিল। রাফায়েল লেমকিন এ ধরনের ঘটনা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে উদ্যোগী হন। ফলে ওই সময় থেকে এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ বিচারের উদ্যোগ নেয়—নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল, টোকিও ট্রাইব্যুনাল—যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সে সময় এ জেনোসাইড শব্দটি গৃহীত হলো। জেনোস ও সাইড যথাক্রমে দুটি গ্রিক ও লাতিন শব্দ মিলে তৈরি হলো জেনোসাইড এবং এ শব্দবন্ধের সঙ্গে এর আইনগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ গড়ে উঠল। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ জেনোসাইড কনভেনশন গ্রহণ করল। অর্থাৎ জেনোসাইড ইংরেজি ভাষাতেই একটি নতুন শব্দ। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা একাত্তরে জেনোসাইডের শিকার হয়েছি। এখানে ভয়াবহ নৃশংসতা হয়েছে, আমরা বাংলায় বলছি গণহত্যা। কিন্তু গণহত্যার চেয়ে জেনোসইড শব্দটি আরো ব্যাপকতর অর্থ বহন করে, যার ফলে নতুন কোনো শব্দ গঠনের কথা অনেকে ভাবছেন। কিন্তু আমি মনে করি, যতদিন না জেনোসাইডের যথাযথ প্রতিশব্দ বাংলায় তৈরি হচ্ছে, ততদিন জেনোসাইড আর গণহত্যা শব্দ দুটি পাশাপাশি বা বিকল্প হিসেবে চলতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে জেনোসাইড নিছক গণহত্যা নয়; এটি গণহত্যার চেয়ে আরো নৃশংস, আরো ভয়াবহ এবং সেদিকগুলো মনে রাখা সংগত।

কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে একাত্তরের জেনোসাইডের স্বীকৃতি পাওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। এর পেছনে কি কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব আছে বলে আপনি মনে করেন?

জেনোসাইডের সঙ্গে সর্বদাই রাজনীতি জড়িত থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি তদীয় নাৎসি বাহিনী এবং হিটলার জাতি মতাদর্শের মিশেলে যখন নিশ্চিহ্নকরণ কর্মে অবতীর্ণ হয়, তখন অন্য অনেক রাজনৈতিক শক্তি ও দেশ সে কাজে সম্পৃক্ত হয়। বাংলাদেশের জেনোসাইডের ক্ষেত্রে পাকিস্তান যে সংহার করেছে, সেক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে অনেক রাষ্ট্র সহায়তা করেছে, সমর্থন করেছে। সে সময় ভূরাজনৈতিকভাবে পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত ছিল—একদিকে সমাজতান্ত্রিক শিবির আর অন্যদিকে পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্ব। এর বাইরে ছিল তৃতীয় বিশ্বের জোটবহির্ভূত একটি অংশ, যারা নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করেছিল। ১৯৪৮ সালের পর মূলত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে জেনোসাইড রোধ এবং এর বিচারও করা যায়নি। কারণ বিচার করতে গেলে জাতিসংঘের সর্বসম্মত একটা অবস্থান প্রয়োজন। কিন্তু জাতিসংঘ কখনো এ অবস্থান নিতে পারেনি। বাংলাদেশে যখন ১৯৭১ সালে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটে, সেটা যে জেনোসাইড বা গণহত্যা তা তখন থেকেই অনেকে শনাক্ত করেন। যারা সম্যক অবগত ছিলেন, যারা সাংবাদিক ছিলেন তারা সবাই সে সময় প্রচারণা করেন। ফলে দেশে যে জেনোসাইড হচ্ছে তা ১৯৭১ সাল থেকেই স্বীকৃত ছিল। কিন্তু জাতিসংঘ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি কোনো আলোচনা করা হয়নি। স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলেন এবং ভাষণ দিলেন। ওই ভাষণে তিনি জাতিসংঘের কাছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানালেন—আসুন, দেখুন এবং এ গণহত্যার বিচার করুন। সে আবেদনেও কেউ সাড়া দেয়নি। এরপর ১৯৭৫-এর পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়ে গেল। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বা বাংলাদেশ নিজে যে উদ্যোগ নিয়েছিল সেগুলো নিয়ে আর অগ্রসর হওয়া যায়নি। 

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে জেনোসাইডের স্মৃতি সংরক্ষণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এখন পর্যন্ত কী কী কাজ করছে?

স্মৃতি সংরক্ষণ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়। বলা হয়ে থাকে, সভ্যতার সবচেয়ে বড় দায় বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই। একাত্তরের স্মৃতি সংরক্ষণ বাংলাদেশের মানুষ নানাভাবে করে চলেছে। যখন দুঃসময় এসেছে তখন স্মৃতিকথা লেখা হয়েছে, স্মারক স্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে, বধ্যভূমি চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, যার উদাহরণ জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রভৃতি। রাষ্ট্র নানা বাধা-বিঘ্নের মধ্যে থেকেও এ উদ্যোগগুলো শুরু করেছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে উল্টো যাত্রা শুরু হয়। এ সত্ত্বেও যখন এক ধরনের অস্বীকৃতির পরিস্থিতি তৈরি হয়, মানুষ তাদের স্মৃতি থেকে কিছুই হারাতে দেয়নি। জেনোসাইডে পীড়িত, নিগৃহীত জাতি হিসেবে আমরা কখনো এই জেনোসাইডকে বিস্মৃতি হতে দিইনি। বরং এটি প্রজন্ম পরম্পরায় বাহিত হচ্ছে এবং এর দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেছি—গোলাম আযমের নাগরিত্ব ফিরিয়ে দেয়া হলো, দেশে পুনর্বাসিত করা হলো, যারা গণহত্যার দোসর ছিল তারা সরকারের অংশ হলো, জাহানারা ইমাম আন্দোলনের ডাক দিলেন, গণআদালত প্রতিষ্ঠার ডাকে তরুণরা সাড়া দিল। আর এর পেছনে জাহানারা ইমামের লেখা বই অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি আরো অনেক বই, নাটক, কবিতা, তথ্যচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র স্মৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রেখেছে এবং সামাজিকভাবে এ উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং স্মৃতির লড়াই বাংলাদেশ করছে এবং এটি বাংলাদেশের শক্তি। এর প্রতিফলন আমরা গণজাগরণ মঞ্চেও দেখেছি। এসব কাজ এখন দেশে সংহত করার সময় এসেছে। ২০১০ সাল থেকে আমরা এ কাজের জন্য এক ধরনের অনুকূল পরিবেশ পেয়েছি। এরই মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনেক কাজ হয়েছে। সামাজিক উদ্যোগে খুলনায় গণহত্যা ও ‍নির্যাতন জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সরকারি সহায়তায় সেটি স্থায়ী রূপ পাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ হচ্ছে, পত্রপত্রিকায় তরুণ প্রজন্ম লেখালেখি করছে এ বিষয়ে। আমি বলব, জাতিগতভাবে আমরা নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, কিন্তু এ বিষয়ে আমরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছি এবং এখনো এগোচ্ছি। ফলে বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনাটি বাইরের দেশের দৃষ্টি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং বাইরের নানা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় আমাদের বিস্মৃত গণহত্যার স্মৃতি জাগরূক হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে জাতিসংঘের নীরব ভূমিকাকে আমরা কীভাবে সরব করতে পারি?

জাতিসংঘ অনেকগুলো বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে চলে। এর মধ্যে একটি হলো, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন যা একটি সর্বজনীন ঘোষণা। কিন্তু সবাই যে তা মান্য করে চলে, এমন নয়। এর বর্তমান প্রমাণ গাজার ঘটনাবলি। জাতিসংঘ গাজায় গণহত্যা বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারছে না। যদিও জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কিংবা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কোনো ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। এর কারণ জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, জাতিসংঘের স্বীকৃত এমন কোনো সংস্থা নেই যেখানে গণহত্যার স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা যাবে। তবে জাতিসংঘ যখন ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠা করল, তার পর থেকে এ আদালতে গণহত্যার তদন্ত ও বিচার শুরু হয়। কিন্তু এ আদালতের ম্যান্ডেটে আছে যে, তারা পূর্ববর্তী কোনো গণহত্যার বিচারে যাবে না। ফলে একাত্তরের কোনো ঘটনা নিয়ে আমরা আইসিসিতে যেতে পারব না। কিন্তু আইসিসি গঠনের আগে অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছিল, সেসব ট্রাইব্যুনালই এক ধরনের স্বীকৃতি ছিল—চলমান গণহত্যা নিয়ে যখন রুয়ান্ডা ও বসনিয়ায় গণহত্যা চলছিল। আরেকটি গণহত্যাকে তারা আমলে নিয়েছিল—কম্বোডিয়ার গণহত্যা। সেটির অবশ্য কিছু রাজনৈতিক কারণ ছিল। 

বাংলাদেশের অভ্যুদয় তার নিজস্ব শক্তিতে হয়েছে। পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দেশগুলোর স্বীকৃতি পেয়েছে, কিন্তু চীন কর্তৃক স্বীকৃতি পায়নি। ফলে বাংলাদেশ জাতিসংঘে প্রবেশ করেছে ১৯৭৪ সালে। সে সময় জাতিসংঘের কিছু করার ছিল না। বরং তারা বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যেন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের, গণহত্যার অপরাধীদের ফিরিয়ে দেয়া হয়, বাংলাদেশ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান তাদের বিচার করবে বলে। কিন্তু সেটিও ঘটেনি। বিচার তো দূরের কথা, পাকিস্তান কখনই চাইবে না একাত্তরে তাদের নৃশংসতা নিজেদের নাগরিক জানুক। যদিও ক্রমেই অল্পসংখ্যক মানুষ সেসব জানছে। 

জেনোসাইডের স্বীকৃতি পেতে কোন বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন?

সবচেয়ে জরুরি হলো, বাংলাদেশের জেনোসাইডের ইতিহাস পুরো পৃথিবীকে জানানো। জেনোসাইড স্টাডিজ এখন আন্তর্জাতিকভাবে পঠন-পাঠনের বিষয়। বর্তমানে যেসব বই লেখা হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের জেনোসাইডকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন হয়েছে। বিভিন্ন দেশের জেনোসাইড স্কলাররা এসেছেন সেসব সেমিনারে, নানা বইপত্র দেখেছেন, স্মৃতির নিদর্শন দেখেছেন। ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তিন খণ্ডে ‘ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অব জেনোসাইড’ শীর্ষক বই প্রকাশ করেছে। এ বইয়ের তৃতীয় খণ্ডে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে পৃথক একটি অধ্যায় রয়েছে। বলা যায়, আমাদের গণহত্যা একাডেমিক সার্কেলে ফিরেছে; নানা দেশ এ সম্পর্কে জানছে। এছাড়া ২৫ মার্চকে আমরা গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছি। ফলে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনে এ দিবস পালন হচ্ছে এবং বাইরের মানুষ এ সম্পর্কে অবগত হচ্ছে। গত বছর জাতিসংঘের হেডকোয়ার্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে আমাদের জেনোসাইড ঘিরে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানেও সবাই দেখেছে, জেনেছে। এগুলোও এক ধরনের স্বীকৃতি। স্বীকৃতি পাওয়া রাতারাতি সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের নিরন্তর কাজ করে যেতে হবে। আর্মেনীয়রা প্রায় ১০০ বছর পর স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমরা এখনো প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি। এজন্য আমাদের কাজগুলোকে সংহত করতে হবে। জেনোসাইডের স্বীকৃতি পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনোসাইড প্রতিরোধ করতে হলে জেনোসাইডের প্রতিটি ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।