কারণ প্রচলিত যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে জুলাইয়ের ঘটনাক্রম ব্যাখ্যা করা সত্যিই কঠিন। সেক্ষেত্রে ‘অলৌকিক’ কিছু ঘটেছিল বলে মনে হয়। বাংলাদেশ তো বটেই এমনকি গোটা দুনিয়ার ইতিহাসেও অতি স্বল্প সময়ে দেশের আপামর জনসাধারণের এমন ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম ও বিরল ঘটনা।
খুব সম্ভবত ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লবের ‘সাড়া জাগানো দশ দিন’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে ৩৬ জুলাই আখ্যা দেয়া হয়েছিল। এমন ঘটনা একটি জাতির জীবনে সহসা ঘটে না। বাংলাদেশে সংঘটিত হওয়া অভূতপূর্ব সেই গণ-অভ্যুত্থানের এরই মধ্যে দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এর মাঝে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সময় স্বল্প হলেও এর বিস্তৃত পরিসরের কারণে ঐতিহাসিক এ ঘটনার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মেলানো জরুরি।
বহু দিক থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ছিল অনন্য। সরকারি বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় সশস্ত্র কর্মীদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার রাজপথে নেমে আসা মোটেও সহজ ছিল না। তাছাড়া প্রশিক্ষিত একক কোনো সংগঠন এ আন্দোলনকে সংগঠিত বা পরিচালিত করেনি। তার পরও কীভাবে যেন গোটা দেশের অধিকাংশ মানুষ উজ্জীবিত হয় এবং দলে দলে রাজপথে নামতে থাকে। টানা ৩৫ দিন আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমে বাড়তে থাকে। মাঝে কয়েকদিন একটু ঝিমিয়ে গেলেও দ্রুতই পরিস্থিতি বদলায় এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত হয়।
আরেকটি খুব লক্ষণীয় দিক হলো, দেশের লাখ লাখ মানুষ সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে, অথচ তাদের নির্দেশনা দেয়া বা পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করার মতো একক কোনো নেতা ছিল না—বিষয়টা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। জুলাই আন্দোলন জোরদার হতে থাকলে ক্রমান্বয়ে সবাই সক্রিয় হয় এবং নিজেদের মতো করে নিজ গণ্ডির মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। সবার লক্ষ্য থাকে অভিন্ন। তাই বহুপন্থার একক কার্যক্রমে মতবিরোধ বা সংঘাতের ঘটনা শোনা যায়নি। তখন একক কোনো ব্যক্তির নেতৃত্ব দেয়া জরুরি ছিল না। কারণ সময় ও পরিস্থিতি অসংখ্য নেতা তৈরি করেছিল। তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন-সংগ্রামকে সংগঠিত করেছেন। চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পর তারা আবার নিজেদের অবস্থানে ফিরে গেছেন। মাঝে কয়েক দিনের জন্য সবাই ‘বিপ্লবী’ হয়ে উঠেছিল—এটা বিস্ময়কর!
বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামে সাধারণত পুরুষ বা তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মায়েরা তাদের সন্তানদের হাত ধরে রাস্তায় নেমে এসেছিল যা খুব সহজ ব্যাপার নয়। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কিছু ক্ষেত্রে সহপাঠী ছেলেদের তুলনায় বেশি ছিল। তারা আহত ও নানা হয়রানির শিকার হলেও হাল ছাড়েননি। তাদের ডেডিকেশন ও আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ছিল এর আগের যেকোনো গণ-আন্দোলনের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি।
হাল আমলে প্রযুক্তিপণ্যের প্রভাবে কিশোর-তরুণরা উচ্ছন্নে যাচ্ছে বলে সবাই ভাবত। জগৎ সংসার সম্পর্কে তাদের উদাসীনতা অনেককেই বিরক্ত করত। জেন-জি বলে পরিচিত গোষ্ঠী সারা দিন গেমস খেলে, নিজেদের ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে, সমাজ-সংস্কৃতি-রাষ্ট্র সম্পর্কে পুরোপুরি উদাসীন থাকে বলে সবাই বিশ্বাস করত। কিন্তু কী বিস্ময়করভাবে এ কিশোর-তরুণরা অনেক বেশি সচেতন হয়ে গেল। তারা নিজেদের ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রাতারাতি ঐক্যবদ্ধ হলো। লক্ষ্য অর্জনে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা প্রদর্শন করল! ঠিক তেমনিভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরতদের অনেকটা বাঁকা চোখে দেখা হতো। তারা ধনীর দুলাল ও বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত বলে মনে করা হতো। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে তারাই দৃঢ়ভাবে আন্দোলনের হাল ধরে এবং চূড়ান্ত সফলতা না আসা পর্যন্ত নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকে।
আগের অধিকাংশ আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল শহরকেন্দ্রিক। বিশেষত রাজধানীকে কেন্দ্র করেই সেগুলো সংঘটিত হতো। কিন্তু চব্বিশে গোটা দেশের মানুষ একাত্ম হয়েছিল। দেশের আনাচে-কানাচে সবাই কীভাবে যেন বিষয়টাতে এনগেজড হয়ে যায়। তাছাড়া ওই লড়াইয়ে শুধু তরুণরা নয়, বরং আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। অন্যদিকে চূড়ান্ত বিজয় আসার পর টানা তিনদিন দেশে কোনো সরকার ছিল না। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের মতে, লাখ লাখ মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। হঠাৎ করেই সবাই কেমন যেন দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। নিজেরা কেয়ারটেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বহু জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিজ থেকে কাঁধে তুলে নেয়।
আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে। শুরুতে সেটা মুখ্য থাকলেও ক্ষমতাসীনদের মারমুখী আচরণে ক্রমে তা গৌণ হয়ে যায়। তখন বৈষম্যের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত মানুষ এক কাতারে শামিল হয়। সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও বঞ্চনার ক্ষোভ তাদের ক্রমে ঐক্যবদ্ধ করে। সামগ্রিক দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির আশায় তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পরবর্তী প্রজন্মের ‘কথা বলার সুযোগ’ নিশ্চিত করতে চায়। তৎকালীন শাসকদের গায়ের জোরে সবকিছু করার প্রবণতা আমজনতাকে (বিশেষত ছাত্রদের) ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। আন্দোলনের দিনগুলোতে মানুষকে নির্বিচারে গুলি করা, দমনপীড়ন ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি...সর্বোপরি ফ্যাসিজম থেকে মুক্তি চেয়েছিল। গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা ‘ন্যূনতম স্বাধীনতা’র কাঙাল হয়ে উঠেছিল।
জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রাপ্তি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যখন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে জাতীয় মসজিদের ইমাম পর্যন্ত পালিয়ে যান, দেশের পুলিশ বিভাগ পুরোপুরি অকার্যকর থাকে, বিপ্লবীরা যা খুশি তা করতে পারে—এমন বিশ্বাস লালন করে...তেমন পরিস্থিতিতে দেশে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব ছিল না। কারণ দেড় যুগ ধরে নিষ্পেষিত ব্যক্তিদের প্রতিশোধ গ্রহণের কল্পনাতীত সুযোগ আসার পরও তারা মোটামুটি সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। শুধু সকাল-সন্ধ্যা সচিবালয়-যমুনা ঘেরাও করতে যাওয়া গোষ্ঠীগুলো বিশেষ কারো ইন্ধনে মাঠে নামত বলে ধারণা করা হয়।
অন্যদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর দেশের ডুবন্ত অর্থনীতিতে লাগাম টানা সম্ভব হয়। ক্রমহ্রাসমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটা সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছে। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী প্রধান পক্ষগুলোকে একত্রে বসিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত একটা ঐকমত্যের দলিল (জুলাই সনদ) স্বাক্ষর করায়। ড. ইউনূস বা উপদেষ্টারা খারাপ কাজ করছেন—সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্তত সেই কথাটা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ৫ আগস্টের পর প্রায় দেড় যুগের দমবন্ধ অবস্থা কাটতে শুরু করে।
অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে যত কথাই হোক, তারা দেশকে স্থায়ী সংকটের মধ্যে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়েছেন। জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে গণভোটে যেসব বিষয়ের পক্ষে জনতা রায় দিয়েছিল, সেগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। দেশের জনগণ (বিশেষত জেন-জিরা) সেটাকে কীভাবে দেখছে—সময়ই তা বলে দেবে।
পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারের মূল্যায়নের জন্য পাঁচ মাস মোটেও বেশি সময় নয়। তার পরও বলা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে ঢালাওভাবে দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মাধ্যমে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছেন। অত্যুৎসাহীরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেশে সংঘাতের রাজনীতি ফিরিয়ে আনছে। যে তরুণ প্রজন্ম এর আগে বিএনপির শাসনামল দেখেনি তারা কিন্তু বর্তমান সরকারের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৫ বছরে (২০০১-২৬) দেশে অনেক কিছুই বদলে গেছে। বিশেষত মূলধারার গণমাধ্যম তরুণদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের নিজস্ব মাধ্যম ও ভাষা রয়েছে। তাই কয়েকটি সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল জনমত গঠন করে না, এখন কীভাবে যেন সবাই সবকিছু জেনে যায়। ফলে তাদের বোকা বানিয়ে দীর্ঘদিন শাসন-শোষণ করা যাবে না—ক্ষমতাসীনদের এ উপলব্ধি জরুরি।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী দুই বছরের সামগ্রিক কার্যক্রমে আমাদের কি হতাশ হওয়া উচিত? এখনই না। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন (১৯৯১) পেতে দুই দশক সময় লেগেছিল। অন্যদিকে আরব বসন্ত বা জেন-জি ঝড়ে মসনদ উল্টে যাওয়া বহু দেশ এখনো টালমাটালভাবে চলছে। সেদিক থেকে আমরা দ্রুতই স্ট্যাবল হওয়ার পথে হাঁটছি। কিন্তু যারা একত্রে জুলাইকে সফল করেছিল আজ তারা পরস্পরকে ব্যর্থ দেখতে ভীষণভাবে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুঃসময় যাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সুসময়ে তারা বড় মারমুখী অবস্থানে চলে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে কার অবদান বেশি—এ ধাঁধাঁ মতবিরোধ বাড়াচ্ছে। আসলে এ অর্জন একক কোনো ব্যক্তি বা দলের ছিল না। তাছাড়া জুলাই একক কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না; সেটা ছিল চাপিয়ে দেয়া সিস্টেম ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।
চব্বিশে সাহসী ভূমিকা রাখা অনেকেই পরবর্তীকালে বিপথগামী হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় সংকট হলো জুলাইয়ের ছায়াতলে সব ধরনের মানুষ একত্রিত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ আগের ছাত্রনেতাদের মতো আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে জুলাইয়ের আবেদন ভীষণভাবে বিতর্কিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধারায় লাগাম টানার মতো একক কোনো নেতা বা কর্তৃপক্ষ নেই। এক্ষেত্রে বড়দের কর্তব্য ছিল তাদের যথাযথভাবে গাইড করা। রাষ্ট্র দর্শনের আলোকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে তাদের সঠিক পথে থাকতে সহযোগিতা করা। কিন্তু সেটা না করে বড়রা হালুয়া-রুটি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেটা দেখে তরুণদের অনেকে সেই পথ অনুসরণ করে। তাছাড়া জুলাইকে ধারণকারী গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে। ফলে কয়েক দশক পর জুলাইয়ের নাম ঠিক কীভাবে উচ্চারিত হবে তা সক্রিয় অংশীজনদের গভীরভাবে উপলব্ধি করা দরকার।
শুধু একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন জুলাইয়ের প্রত্যাশা ছিল না। তাছাড়া সেই নির্বাচন হওয়ার পর গত কয়েক মাসে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি কি প্রত্যাশামাফিক এগোচ্ছে? উত্তর অজানা নয়; এত বড় ত্যাগের বিপরীতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। মাঝে সংস্কার নিয়ে অনেক কথা হলেও এখন তা মরীচিকায় পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। পুরনো ধারার রাজনীতি প্রবল বেগে ফিরে আসছে। ক্যাম্পাস দখলের রাজনীতি আবার শুরু হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন বোধ করছেন।
মোটের ওপর সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে, ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বেড়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের আশপাশের লোকজনের দাপটে সাধারণ মানুষ এরই মধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছে। সংসদে বিরোধী দলও যে খুব ভালো ভূমিকা রাখছে তা বলা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য নেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীকে দলের ঊর্ধ্বে উঠে আপামর জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে। তাদের কষ্ট উনাকে স্পর্শ করতে হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ত্বরিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, জুলাইকে যারা বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য। ক্ষুদ্র স্বার্থে পরস্পর কামড়াকামড়ি করলে দিনশেষে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। সেক্ষেত্রে দেশের সিংহভাগ তরুণ ক্ষুব্ধ হবে, প্রয়োজনে আবারো তারা রাস্তায় নামবে। তাই জুলাই স্পিরিটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা সবাই দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, সবাই নিজেদের আদর্শ প্রচার করবে, সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ জনকল্যাণে মনোযোগী হবে—সেটাই প্রত্যাশা।
ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক










