তবে এ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হ্রাস কেবল সাময়িক বা আংশিক চিত্র তুলে ধরে। প্রকৃতপক্ষে, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে লক্ষ্যভুক্ত দেশগুলো অন্য নিরপেক্ষ বা তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সংযোগ গড়ে তোলে, যা তাদের মূল ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর লক্ষ্যভুক্ত দেশের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে থাকা দেশগুলোর বাণিজ্য উল্টো উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল বাজারের পথ বন্ধ হলেও দেশগুলো দ্রুত বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে নেয়। ফলে তাদের সামগ্রিক মোট বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার বদলে সচল থাকে। যেমন ২০০৬ সালে রাশিয়া জর্জিয়ার ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দুই দেশের রফতানি প্রায় ৫৭ শতাংশ কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে দেশটির রফতানি প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়ে যায়। অন্য দেশগুলোর বাজার আগে থেকেই বড় থাকায় সামগ্রিকভাবে জর্জিয়ার মোট রফতানি কমার বদলে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬১ শতাংশ বাড়ে। তাই কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়াকে নিষেধাজ্ঞার সাফল্য হিসেবে দেখা ভুল। অর্থনীতির এ বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে কোনো দেশকে কার্যকরভাবে চাপ দিতে হলে একক বা দ্বিপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত জোট গঠন করা প্রয়োজন।
[অর্থনীতিবিষয়ক গবেষণার বৈশ্বিক সংস্থা ভক্সইইউ থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর]
গ্যাব্রিয়েল ফেলবারমেয়ার: অর্থনীতিবিদ; অস্ট্রিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের পরিচালক এবং ভিয়েনার অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক










