জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া গণহত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারকে তাই অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা যে দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়েছিল তাকে নতুনভাবে গড়তে হবে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি বা ঘাটতি থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এমনটি অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে।

দেড় দশকের দলীয়করণে বিধ্বস্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রকে রাতারাতি পুনর্গঠন করার বাস্তব অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণ দলীয়করণমুক্ত করে সেবাধর্মী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার এ চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের ওপর বর্তেছে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার দ্রুত ক্ষমতার রদবদল ও নির্বাচন আদায়ের প্রবণতা থেকে সরে আসতে হবে, বরং গভীর রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের নায়ক ছাত্র-জনতার মূল দাবি ছিল রাষ্ট্র ব্যবস্থার এমন পরিবর্তন করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হতে না পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইনি, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এমনটি করতে না পারলে আবারো পুরনো ফ্যাসিবাদের চর্চা ফিরে আসতে পারে। তাতে অভ্যুত্থানের স্পিরিটই নস্যাৎ হবে।

ড. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ: অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়