নেপাল ও চীন সীমান্তসংলগ্ন গ্যিরোং বন্দর অঞ্চলে ঘটে যাওয়া অভূতপূর্ব দুর্যোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তিব্বত মালভূমি এবং হিমালয় অঞ্চল বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়নের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে। এ দ্রুত ধারা উচ্চ পার্বত্যাঞ্চলের শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা বরফ, পারমাফ্রস্ট এবং স্থায়ী তুষারবৃত্তকে অস্বাভাবিকভাবে গলাচ্ছে। ফলে পাহাড়ের ঢালে জমে থাকা শিথিল শিলা ও কাদা নাজুক হয়ে পড়ছে এবং সামান্য নড়াচড়াতেই ক্যাসকেডিং দুর্যোগ তৈরি করছে। ফলে বরফধস পরবর্তী সময়ে ভূমিধস, কাদাপ্রবাহ এবং হ্রদভাঙা বন্যায় রূপ নেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিমবাহ সিস্টেমে ১০-২০ বছরের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া রেখে যায়। অর্থাৎ আগামী কয়েক দশক হিমালয় অঞ্চলে এমন আরো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গ্যিরোং উপত্যকা মানুষের বসবাসের ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য আদর্শ স্থান। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন অতীতের সেই সর্বোত্তম প্রাকৃতিক সমাধানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। দুর্গম পার্বত্যাঞ্চল, সংকেতহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নতুন ধসের ঝুঁকির কারণে যদিও স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে, তবে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে সমন্বিত ভূপ্রকৃতির ডেটা শেয়ারিং এবং যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ত্বরান্বিত করাই সঠিক পথ।
[সিজিটিএন থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর]
জাও চ্যাংঝিং: চীনের বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নানজিং ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর










