বৈশ্বিক সমুদ্রপথের জ্বালানি তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ও এলএনজির পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া এশিয়ার কৃষি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও প্রযুক্তি শিল্পের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহও এর মাধ্যমে হয়। ফলে জাহাজ চলাচলের ওপর সামান্য হুমকি তৈরি করে ইরান বৈশ্বিক বাজারে বীমা খরচ ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রথমে একে ক্ষমতার চরম বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও এ অস্ত্র ব্যবহারের কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হবে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ পরিচালিত হয় এ দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো দিয়ে। তাই প্রণালি অবরোধ দেশটিকে প্রয়োজনীয় রফতানি আয় থেকে বঞ্চিত করছে। প্রণালিটি বারবার সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করায় বিশ্বজুড়ে বিকল্প পথের অনুসন্ধান বাড়ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহারের তাগিদ অনুভব করছে। পাশাপাশি আমদানিকারক দেশগুলো তাদের জ্বালানি ও পণ্যের উৎস বহুমুখী করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে। দরকষাকষিতে প্রভাব ফেলতে ইরান হরমুজকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলেও যত বেশি আক্রমণাত্মকভাবে এ অস্ত্র প্রয়োগ হবে, বৈশ্বিক নির্ভরতা কমে যাওয়ায় এর কার্যকারিতা তত দ্রুত ভোঁতা হতে থাকবে।

[আল জাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধের সারসংক্ষেপ]

ড. মোহাম্মদ রেজা ফারজানেগান: জার্মানির ফিলিপস ইউনিভার্সিটি মারবার্গের মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতির অধ্যাপক