অনিবার্য কারণে সকালের ক্লাসটি বাতিল হয়েছে—ঘুম থেকে ওঠার প্রাক্কালে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এমন মেসেজ দেখলে খুশি হয় নাকি মন খারাপ করে? খুব ব্যতিক্রম ছাড়া সে দারুণ পুলক অনুভব করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি কোনো ক্রিকেট একাডেমিতে, নাটকের রিহার্সেলে বা ড্রাইভিং শেখার ক্লাসে যাওয়ার আগে একই বার্তা পেত, তবে কি তার মনের অবস্থা একই রকম হতো? খুব সম্ভবত না, বরং তার প্রচণ্ড মন খারাপ হতো!

  • তাহলে ঠিক কোন কারণে এক ক্লাস বাতিল হওয়ায় সে আনন্দিত হচ্ছে; অন্যটায় মন খারাপ করছে? একই যাত্রায় কেন এতটা ভিন্ন অনুভব হচ্ছে? অথবা দেশের অন্যতম সেরা মেধাবীরা মেডিকেল কলেজে পড়তে গিয়ে তাদের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা বাড়ছে? কিংবা দেশের সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের বিষণ্নতার মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়ছে? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দৃশ্যমানভাবে কেনই-বা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে?
  • এমন জটিল সব বিষয়ের পেছনে নিশ্চয়ই অনেক কারণ রয়েছে। তবে অন্যতম কারণ হলো বৈচিত্র্যহীন, একঘেঁয়ে ও মুখস্থনির্ভর পাঠদান প্রক্রিয়া। উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষায় মোটের ওপর বলা যায় ‘শেখার আনন্দ’ পুরোপুরি অনুপস্থিত। বরং তা এক ধরনের বোঝা বয়ে বেড়ানোর অনুভূতি দেয়। আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেটা করতে হয় বলে মাঝেমধ্যে পাহাড়সম বলে মনে হয়। ফলে অন্তত একটা ঘণ্টা তা থেকে মুক্তির আনন্দ উদযাপন করাটা অস্বাভাবিক নয়।
  • আমাদের দেশে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষণ প্রক্রিয়া প্রায় একই রকম। নির্ধারিত সময় ও পরিবেশে পূর্ব অনুমিত পন্থায় কোনো বিষয়ে লেকচার শোনা। শিক্ষার্থীরা তা থেকে নিজেদের মতো করে ইনপুট নেন। মূল্যায়নের সময় তারা সেগুলো রি-প্রডিউস করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। বহু বিষয়ে বিস্ময়করভাবে কিছু না বুঝেও (শুধু মুখস্থ করে) অধীত বিষয়গুলো গুছিয়ে লিখে সর্বোচ্চ মেধাবীর স্বীকৃতি পাওয়া যায়! ফলে স্মৃতিশক্তির কিছুটা টেস্ট হলেও কী পড়ছে, কেন পড়ছে সেগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করা, ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নমত পোষণ করা কিংবা নিজস্ব ভাবনা উপস্থাপনের সুযোগ একেবারেই কম।
  • অথচ ক্রিকেট কোচিং, নাটকের রিহার্সেল বা ড্রাইভিং শেখার কথা কল্পনা করুন। সেখানে প্রশিক্ষক শেখান অতি সামান্য; শিক্ষার্থীরা চর্চা করে অনেক বেশি। তাছাড়া সদ্য শেখা কৌশলটি নিজের মতো করে ট্রাই করার সুযোগ পান। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দরকারি জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনের দারুণ এক অনুভূতি পান। হয়তো এ কারণেই সেই ক্লাস ক্যানসেল হলে মন খারাপ হয়। কিন্তু মেডিকেল-ইঞ্জিনিয়ারিং-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সেই অনুভূতি থেকে থাকে বঞ্চিত। ফলে তা থেকে দূরে থাকলে এক ধরনের শান্তি অনুভব হয়!
  • প্রচলিত পদ্ধতির উচ্চশিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করার প্রবণতাও লক্ষণীয়। তাদের প্রত্যেকে যে প্রাপ্তবয়স্ক, আলোচ্য বিষয়ে তাদের নিজেদেরও ভিন্নতর ভাবনা থাকতে পারে, স্বাধীনভাবে তারাও কিছু সৃষ্টি করতে পারে...এ বিষয়গুলোকে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়। বরং তাদের পাঠে উদাসীনতা, সহজ পথে বৈতরণী পারের চেষ্টা, অন্যান্য বিষয়ে ঝোঁক ইত্যাদি বিষয়কে ফোকাস করা হয়। ফলে বিদ্যমান শিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তনের আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কিনা তা থাকে বিবেচনার বাইরে।
  • অথচ সেই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নিজ পরিবারে অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে নেতৃত্ব দেয়। কোচিং সেন্টার বা অনলাইন পাঠদানে হয়তো তুমুল জনপ্রিয়। তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রে সক্রিয় ও উৎসাহী শিক্ষার্থী শুধু ক্লাসরুমে এসে কেন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে? এটা কি যথেষ্ট ভাবনার বিষয় নয়?
  • আসলে কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তাদের ভূমিকা থাকে শ্রোতার। ফলে একসময় অনেকেরই শুনতে বিতৃষ্ণা এসে যায়। তাছাড়া নানা শঙ্কায় তারা মন খুলে কথাও বলতে পারে না। শিক্ষণ প্রক্রিয়ার দায়িত্বপালনকারী অধিকাংশরাই নিত্যনতুন প্রক্রিয়া চেষ্টা করেন না। যে দু-চারজন শিক্ষক সেটা করেন, তাদের ক্লাস কিন্তু শিক্ষার্থীরা দারুণ উপভোগ করে। সেই শিক্ষকদের ক্লাস ক্যানসেল হওয়ার মেসেজ পেলে হয়তো তাদের মন খারাপ হয়।
  • সত্যি কথা বলতে, আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি বড় অতীতমুখী। বহু শ্রদ্ধেয় শিক্ষক তার ছাত্রজীবনে লব্ধ জ্ঞানকেই ‘যথেষ্ট’ বলে মনে করেন। ফলে নিজেদের শিক্ষণ প্রক্রিয়ার উন্নয়ন বা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা খুব একটা অনুভব করেন না। অথচ দৈনন্দিন জীবনে ২০ বছর আগের মডেলের কোনো টেলিভিশন, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন (ব্যাকডেটেড বলে) আমরা ব্যবহার করি না। তাহলে শিক্ষার মতো গতিশীল একটা বিষয়ে কয়েক দশকের পুরনো পদ্ধতি এখনো কার্যকর থাকে কীভাবে? মাত্র ২০-২৫ বছরের ব্যবধানে নতুন প্রজন্ম আসে। কিন্তু শেখানোর পদ্ধতি প্রায় একই রয়ে যায়। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের রেডিও স্টাইলে খবর শোনালে ঠিক কয়জন মনোযোগী হবে?
  • অনেকে বলতে পারেন, ক্লাসরুমগুলোয় দামি স্মার্টবোর্ড, অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসানো হয়েছে...তার পরও কেমন করে সেকেলে বলছি, তাই তো? আমার মতে, বহু ক্ষেত্রে সেটা হয়েছে ফার্মের মুরগির মতো। দেখতে হৃষ্টপুষ্ট, পরিমাণ বেশ, খেতেও আরাম লাগে। কিন্তু সেই স্বাদ আর পুষ্টি অনুপস্থিত!
  • আগের দিনে চক-ডাস্টার ব্যবহার করা বহু শিক্ষকের ক্লাসরুমেও যে আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি হতো, শিক্ষার্থীদের অনুভূতিকে নাড়া দিত, গভীরভাবে চিন্তায় ফেলে দিত...চকমকে পরিবেশে আজ সেটার বড় অভাব। বরং খাপছাড়া বা বিচ্ছিন্ন কিছু টপিক স্ক্রিনে ভেসে বেড়ায়। পরীক্ষায় পাসের জন্য শিক্ষার্থীরা সেগুলো টুকে নেয়। কিন্তু কেন সেগুলো পড়ছে, জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী...তা ধরতে পারে না। ফলে ভাবনার উদ্রেককারী, চিন্তার পথ উন্মুক্তকারী শিক্ষাদর্শন প্রায় অনুপস্থিত।
  • কিছু ক্ষেত্রে জ্ঞান ও দক্ষতা বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটদের আলাদা সুনাম বা ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে ওঠে। কিন্তু শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য এবং অতি দরকারি এক উপাদান হলো ইতিবাচক মনোভাব গঠন যা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য প্রয়োজন। আমাদের পুরো সিস্টেমে এ বিষয়টাকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়। বরং শিক্ষক-শিক্ষার্থী পরস্পরের প্রতি নেতিবাচক ধারণা লালন ও প্রচার হয়। ফলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্নেহের সম্পর্ক ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজকাল সব কিছু মেটেরিয়ালিস্টিক হয়ে গেছে। অনুভবের জায়গাগুলো হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত।
  • বহু প্রতিষ্ঠান অতি মেধাবীদের শিক্ষার্থী হিসেবে ইনপুট পায়। ফলে ন্যূনতম সাপোর্ট পেলেই তারা নিজেদের চেষ্টায় বহুদূর এগিয়ে যায়। কিন্তু আদর্শ শিক্ষকের কাজ করার জায়গা হলো—শিক্ষার্থীদের মনোভাব পরিবর্তনে সাহায্য করা। সেটা শুধু অধীত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র সর্বোপরি মানবজীবনের প্রতি তাদের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা খুব দরকার। তার অভাবে তরুণদের মাঝে হতাশা ও বিষণ্নতা কাজ করে। রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগে তৈরি হওয়া গ্র্যাজুয়েটদের এমন ঝুঁকি বিষয়ে আমরা উদাসীন থাকতে পারি না।
  • বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনের গতি যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। উন্নত দেশগুলোই তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ আমরা মান্ধাতা আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পদ্ধতি নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি। বিদ্যমান শিক্ষণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বিষয়ে খুব একটা গবেষণা হয় না। কিছু হলেও সেগুলোর ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে আলাপ অনুপস্থিত। বরং নিজ ধারণার ওপর অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তাতে দেশ-জাতি ও মানবসম্পদের ওপর কী প্রভাব পড়ছে সে বিষয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না।
  • বিগত বছরগুলোয় আমরা পাসের হার, জিপিএ বা ছাত্রছাত্রীর অনুপাতের মতো সংখ্যাতাত্ত্বিক বিষয়গুলোয় অনেক বেশি মনোযোগ দিয়েছি। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান বা ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ ও যোগ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরির বিষয়ে উদাসীন থেকেছি। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের আত্ম উপলব্ধি দরকার। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতা করে টিকতে হবে। তাই বিশ্ব যেসব প্যারামিটারকে ভ্যালু দেয় আমাদের সেগুলো অর্জনে মনোযোগী হওয়া জরুরি।
  • শিক্ষার্থীদের অ্যাকটিভ লার্নার হিসেবে অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করে দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিদ্যমান পণ্য ও সেবা আরো উন্নত করার মতো যোগ্য করে তাদের গড়ে তুলতে হবে। সেটার জন্য অবকাঠামোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। তাদের জীবনঘনিষ্ঠ গবেষণায় পর্যাপ্ত ফান্ড দিতে হবে যেন তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেসব সমস্যার সমাধানে কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহ পায়।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ক্লাসরুমের শিক্ষা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন—এ ধারণা পরিবর্তন করতে উদ্যোগী হতে হবে। সেটার জন্য তারুণ্যের উন্মাদনায় ভরপুর একজন শিক্ষার্থী ক্লাসরুমে এসে কেন নিষ্প্রাণ হয়ে যায় তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য অংশীজনদের সহযোগিতা নিতে হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা শুধু তৈরি পোশাক খাতের সস্তা শ্রমের কথা জানি। কিন্তু তরুণদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করলে অতি অল্প বিনিয়োগে অনেক বেশি রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তাই আগামীদিনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে বাস্তবমুখী গবেষণায় তরুণদের উৎসাহ দিতে হবে।
  • আমাদের দেশে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গণহারে মাস্টার্স করার প্রবণতায় লাগাম দেয়া দরকার। চার বছরের অনার্সকে টার্মিনাল ডিগ্রি হিসেবে সর্বত্র গ্রহণ করা হয়। তাই সবার মাস্টার্স করা খুব কি দরকার? বরং রিসার্চ বেজড মাস্টার্স ডিগ্রির প্রসার জরুরি। প্রতি বছর উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রিসার্চ প্রপোজাল আহ্বান করা যেতে পারে। প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ দিলে মেধাবীরা চাকরির চেয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেবে।
  • তাদের গবেষণা আউটপুট নিয়মিত পাবলিশ ও পেটেন্ট হলে অন্যরাও উৎসাহী হবে। প্রাপ্ত ফলাফল আরো উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা যাবে। সেটা সম্ভব হলে আমাদের তরুণরাই নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছুটতে শুরু করবে। বর্তমান সিস্টেমে ক্লান্ত ও ঝিমিয়ে পড়া ছেলে-মেয়েরা বিদ্যমান ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে রাত-দিন একাকার করে পরিশ্রম করবে। তবেই সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক