গত এক দশকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুদহারের পূর্বাভাস দিয়ে আগাম নির্দেশনার চর্চা বর্তমান সংকটপ্রবণ অর্থনীতিতে ঝুঁকিপূর্ণ। মুদ্রাস্ফীতির হঠাৎ পরিবর্তন বা সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত পূর্বে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা কঠিন করে ফেলে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতে পারে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের প্রতিক্রিয়া কৌশল পরিষ্কার করার ওপর জোর দিচ্ছে। এর মানে নতুন কোনো অর্থনৈতিক তথ্য বা ডেটা কীভাবে মূল নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলবে, তা সাধারণ মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়া। বাজার বুঝতে পারে যে সিদ্ধান্ত হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়, বরং ডেটার ওপর ভিত্তি করে নেয়া একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ।
অর্থনৈতিক পূর্বাভাসকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি হিসেবে না দেখে বরং সম্ভাব্য ঝুঁকির আলোকেই বিবেচনা করা উচিত। অতিরিক্ত যোগাযোগ ও অনেক সময় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্তমান স্বয়ংক্রিয় গণমাধ্যম ও প্রযুক্তির যুগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিটি শব্দ রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে অতিরিক্ত তথ্যের কারণে মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি মূল্যায়নের চেয়ে বার্তা বিশ্লেষণেই বাজার বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাজারে যে স্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা যায়, তা সম্পূর্ণরূপে দূর করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ নয়। তবে পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের লক্ষ্য, সিদ্ধান্ত নেয়ার যুক্তি ও পূর্বাভাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও সৎ থাকতে হবে।
[আইএমএফ ব্লগ থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর]
টোবিয়াস আদরিয়ান: ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সিলর এবং আইএমএফের আর্থিক ও পুঁজিবাজার বিভাগের পরিচালক










